Welcome, visitor! [ Register | Login

কবুতরের সাধারন সমস্যা ও চিকিৎসা

Pigeon Diseases & treatment এপ্রিল 19, 2018

“বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ।” (সূরা বাকারাহঃআয়াত-১৯১)

একবার আমার এক সাথী বললেন যে, তিনি এক তথাকথিত পীর সাহেবের বাড়িতে সন্ধ্যার সময় গেলেন। দেখলেন পীর সাহেব আয়েস করে সোফাতে আধা শায়িত অবস্থায় টিভিতে হিন্দি চ্যানেলে গান দেখছেন। এর মধ্যেই মাগরিবের আযান দিলে। পীর সাহেব শিলা কি জওয়ানি… দেখতে থাকলেন। তার এক খাস মুরিদ কে জিজ্ঞাস করা হল যে পীর সাহেব কি নামাজে যাবেন না। মুরিদ তাড়াতাড়ি জিব কেটে উত্তর দিল বেয়াদবি করেন না। আপনি জানেন পীর সাহেব এ খানে বসে আছেন ঠিকই কিন্তু মক্কা তে ইতিমদ্দেই তার আত্মা নামাজ পড়তে চলে গেছে! (নাউজুবিল্লা।)

এটাই তো উনাদের ভেল্কি এ সব কারিশমা নাকি সাধারন মানুষ বুঝতে পারবে না ইত্যাদি ইত্যাদি নানা ধরনের তার কারিশমা সম্পর্কে বুঝাতে লাগল। উনার কারিশমা আর বুঝার দরকার নাই যা বুঝার বুজা হয়ে গেছে। কিছু পীর সাহেবরা কোরআনের আয়াত এর কিছু অংশ তুলে ধরেন, যেমনঃ “হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও।” (সূরা আন নিসাঃআয়াত-৪৩) এই আয়াতের কিছু অংশ তুলে ধরে বলে যে তাদের কে আল্লাহ্‌ নামাজে ছার দিয়েছেন বাঁ আল্লাহ্‌ ওদেরকে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছে। কিছুদিন আগে এক মজলিসে একজন আরেকজনের সাথে প্রচণ্ড ঝগড়া, আমি যখন সেখানে উপস্থিত হলাম তখন প্রায় হাতাহাতি হবার উপক্রম। জিজ্ঞাস করলাম ভাই কি হয়েছে, জানা গেল যে, প্রথম ব্যাক্তি দাবি করছে যে কোরআনে কোথাও নামাজের কথা বলা হয়নি। ভ্রু কুচকে গেল মাথার চুলখাড়া হয়ে গেল। বুঝলাম এটি জ্ঞান পাপী। তার কথা সত্য কোরআনে নামাজ বলে কোন শব্দ নাই। সালাত বলা আছে। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা থেকে জানি এসব লোককে বুঝাতে গেলেও বুঝবে না। তারপরও একটু বৃথা চেষ্টা করলাম, আর ফলাফল একই হল।

Continue reading …

196 total views, 3 today

কবুতরের জুড়ী প্রস্তুত প্রণালী ও আদর্শ প্রজনন পদ্ধতি

Pigeon Discussion এপ্রিল 18, 2018

কবুতরের জুড়ী প্রস্তুত প্রণালী ও সঠিক/আদর্শ প্রজনন পদ্ধতি (Pigeon Pairing and Ideal Breeding System )

“আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।” ( আল কোরআনঃ সূরা আয- যারিয়াত- আয়াত-৪৯)

সামাজিক সাইট একদিকে যেমন ভাল লাগে অন্যদিকে তেমনি খারাপ লাগে সেই সব উজবুক ছেলে মেয়াদের জন্য যাদের জ্ঞান কম। যাদের স্ট্যাটাস দেখলেই বুঝা যায় কোন পরিবারের আর কোথা থেকে এসেছে। গতকাল এক ছেলে একটি অর্ধউলঙ্গ মডেলের ছবি দিয়ে লিখেছে “Heaven is inside her.” !

কি ধরনের শিক্ষা সে পেয়েছে তা না হয় পরে আলোচনা করব। এসব উজবুক দের ধারনা নেই যে এসব সামাজিক সাইটগুলেতে তার বাবা তার বাবার বয়সী লোক তার ছোট ভাই বোনও থাকতে পারে। আমি স্ট্যাটাসটি দেখে যারপনায় লজ্জিত ও ব্যাথিত হলাম। কারণ এই সাইটে আমার ভাগ্নি,ভাইস্তা, ছাড়াও অনেক ছোট বড় নানা আত্মীয় স্বজন আছেন। তারা কি ভাববে…? এ সবাইকে আমার সামাজিক সাইট এর বন্ধু…? এত নিচু মন মানসিকতার।

 

কিছু দিন আগে বাস স্ট্যান্ড এ দাড়িয়ে আছি। দুইটি স্কুল পড়ুয়া ছেলেও দাড়িয়ে আছে একটু দূরে। তারা বেশ জোরে জোরে কথা বার্তা বলছিল। কিছু কানে আসছিল। এক সময় একটা মেয়েকে দেখে তাদের আলোচনার মাত্রাটা বেড়ে গেল। তারা বাজি ধরছে যে মেয়েটি কি রঙের অন্তবাস পড়ে আছে। কি আশ্চর্য? এটা কি আমাদের সংস্কৃতি ? বলা হয় “Behavior should come from family…! ” আমরা আধুনিকতার নামে ছেলে মেয়েদের কে খেয়াল করি না। তাদের হাতে আধুনিক মোবাইল ও নেট সংযোগ দিয়েছি। কিন্তু একবারের জন্য কোনদিন কি জানতে চেষ্টা করেছি তার কি করে? কিভাবে এর ব্যাবহার করে বা তাদের কে সেই সংস্কার দেয়া হয়েছে যাতে তারা বিপথে যাবার আগে একটু চিন্তা করবে। না এ পথে গেলে গুনাহ হবে এটা করা যাবে না ওটা করা যাবে না।

এক মেয়ে গান গাইছে “ঝুমকা গিরা রে… !”  গিরার জায়গাতে সে গেরা বলাতে তাড়াতাড়ি তার মা থাকে ভুল সুধ্রে দিতেছে আরে গেরা না গিরা…! কিন্তু জীবনের বড় বড় ভুল গুলো কি করার আগেই সতর্ক করছেন? বা শুদ্রে দিবার চেষ্টা করছেন? আজকাল মায়েদের বয়ফ্রেন্ড ও ছেলেদের গ্রালফ্রেন্ড না থাকলে নাকি… তার নাকি মানসিক সমস্যা আছে। এটা কি আপনার কথা নাকি পশ্চিমা মিডিয়া আর পার্শ্ববর্তি দেশের সংস্কৃতি আমাদের এটা শিখাচ্ছে। ছাত্র জীবনে এমন কোন দিন ছিল না যে সন্ধ্যার আযান দিচ্ছে তার মধ্যে বাসাতে ফিরতে হবে। আজানের পর যদি আসতাম তাহলে যদি সঠিক জবাব দিতে না পারা যেত তাহলে সেদিন আর মার মাটিতে পড়ত না। আমারা জীবনের অনেক বছর পার করে এসেছি বলে যাবার পরও নানা প্রশ্নে জর্জরিত হতে হয়। আজও দেরি হলে মা জিজ্ঞাস করে এত দেরি হল কেন কোথাই গিয়েছিলি? এটা কেন? এটাই হলো অনুশাসন। আর জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত এর ব্যাতিক্রম হবে না। হওয়া উচিত না। বলা হয় একটি ছেলে মেয়ে যেমন বাবা মার জন্য আশীর্বাদ তেমনি অভিশাপ। আমাদের মৃত্যুর পর এটি যেমন নাজাতের জারিয়া হিসাবে কাজ করবে অন্যদিকে যদি আপনি তাকে সঠিক ভাবে দীন ই ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে না যান তাহলে আপনার আফসোসের সীমা পরিসীমা থাকবে না। আমাদের নাম ইসলামিক মোতাবেক কিন্তু ইসলামী শাসন মোতাবেক কি চলি? এক বুজুর্গ বলছিলেন। কালেমা পড়, নামাজ পড়, রোজাও রাখ কিন্তু তুমি কি আসলেই মুসলমান ? প্রশ্নটা সবার কাছে।

কবুতরের আদর্শ জোড়া প্রস্তুত ও সঠিক প্রজনন প্রণালী বা ভাল মানের বা জাতের কবুতর প্রজনন (ব্রিডিং) খুব একটা সহজ ব্যাপার না। আর একজন সফল বা আদর্শ  কবুতর খামারি হওয়া ছেলেখেলা নয়। কথায় আছে একটি কবুতর ১২ মাসে ১৩ বার ডিম বাচ্চা করে। আর একজন নতুন খামারি এরই স্বপ্নে বিভোর হয়ে কবুতর পালন শুরু করে। আর এর পরই শুরু হয় তার অগ্নি পরীক্ষা। যাই হোক একজন আদর্শ খামারি যদি বছরে ৪-৫ জোড়া ভাল মানের বাচ্চা তুলে বড় করতে পারে তাহলেই কেবল একটু স্বস্তির বা শান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটার ব্যাতিক্রম হয়। বাচ্চা বড় করা তো দূরের কথা কবুতর ব্রিডিং জোড়ার বাচাতেই ব্যাতিবাস্ত থাকতে হয় অধিকাংশ খামারিকে। ব্যাপারটা এ রকম হয় যে ভিক্ষা চাই কুত্তা সামলানোর মত অবস্থা হয়। একজন খামারি কে প্রতিনিয়ত কবুতরের বিভিন্ন রোগ বালায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাইরাল সংক্রমন, ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমন, ডিমের ভিতর বাচ্চার মৃত্যু, অনুরব ডিম, নেষ্ট এ বাচ্চার মৃত্যু, একটু বড় অবস্থায় বাচ্চার মৃত্যু, প্রতিদিন খাবার ও পানি সরবরাহ ও নিয়মিত চেক করা, চরম আবহাওয়া (আতি গরম বা শীত বা বৃষ্টি)। এ সব প্রতিকুলতা সামাল দিতে গিয়ে একজন খামারি অনেক সময় ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু তারপরও তাকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এ সব বিষয় দেখতে হয় দিনের পর দিন। আর এ ক্ষেত্রে একজন খামারির অধিক ধৈর্যই এ সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে সফলতা এনে দেয়। আর এই ধৈর্য একজন খামারি অর্জন করে অনেক দিন ধরে, যদিও ধৈর্য ও অভিজ্ঞতাকে যদি একজন খামারির সফলতা ধরে নেয়, তাহলেও একটু বিতর্ক থেকেই যায়। কারন এর সঙ্গে ভাগ্য ও কিছুটা আপনার সাথে থাকতে হবে। যেমন আপনি হয়ত আপনার অভিজ্ঞতা ও ধৈর্য সহকারে খামার পরিচালনা করছেন ঠিকমত, হটাৎ দুর্ভাগ্য এসে আপনার খামারে বাসা বাধল, তাহলেও বেশী সময় লাগবে না, আপনি কিছু বুঝে উঠার আগেই খুবই অল্প সময়েই আপনার খামার ঝড় বাতাসের মত লণ্ডভণ্ড করে চলে যাবে। আপনি যদি নিয়মিত সুস্থ সবল ও ভাল মানের কবুতর প্রজনন করতে চান তাহলে আপনাকে কিছু সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। যা এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলঃ

১) কবুতরের আচরন ও বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণঃ

কবুতর একটি খুব জটিল পাখি এবং মানুষের সাথে তুলনা করা যেতে পারে এমন অনেক বৈশিষ্ট্য এর মধ্যে বিদ্যমান। তারা যখন বংশবৃদ্ধি করে তা তারা জীবনের জন্য বংশবৃদ্ধি করে থাকে। একটি ভালো কবুতর তার একটি সঙ্গীর সাথে কমপক্ষে ১০ বছর সফল ভাবে ব্রিডিং করতে পারে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন খামাড়ী নানা কারনে জোড়া পরিবর্তন করে থাকে। যা একটি খামারির অধৈর্যতার পরিচয় বহন করে থাকে। একজন অভিজ্ঞ খামারি প্রাথমিক অবস্থাই অর্থাৎ আমরা যাদের শূন্য পড় বা বাচ্চা বা বেবি বলি সেখান থেকেই কবুতরের আচরন ও বৈশিষ্ট্য দেখে নর ও মাদি নির্বাচন করে জোড়া তৈরি করতে হয়। আর এটা করতে নর ও মাদির আচরন ও বৈশিষ্ট্য দেখেই শুধু এরূপ করা সম্ভব হয়। অনেকেই আবার রিং এর দ্বিতীয় প্রজন্ম এর বাচ্চা বা রিং এর জোড়া বলে কবুতর কিনেন। কিন্তু ভাল করে জেনে নিবেন যে এটা আদৌ রিং এর (নাকি নিজের লাগান রিং) যা প্রায় ঘটে থাকে। সেক্ষেত্রে আপনার অভীষ্ট লক্ষ ব্যাহত হবে। যদিও অনেকেই নতুন পূর্ণবয়স্ক বা সম্পূর্ণ বয়স্ক কবুতরের দিকেই বেশী ঝুকেন তাদের বায়গ্রাফি না জেনেই। আর এটাই অধিকাংশ খামারির সবচেয়ে বড় ভুল। (কিভাবে বৈশিষ্ট্য ও আচরন দেখে নর মাদি চিনবেন তা এ সম্পর্কিত একটি পোস্ট এ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।) শুধু যে জোড়া নির্বাচন এর জন্যই না একটি কবুতরের রোগ ব্যাধি ও সমস্যা নির্ণয়ে এই চরিত্রগত আচরন আপনাকে অনেকাংশে সাহায্য করবে।

২) প্রজনন জোড়া কে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে সতর্কতাঃ

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে কিছু অ্যান্টিবায়টিক আপনার কবুতরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আর এ বিষয়ে আপনাকে আগেই সতর্ক হতে হবে। অ্যান্টিবায়টিক বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কারনের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কারন যাই হোক সমস্যা সুদূর প্রসারি হয় সেটা প্রজনন সময় ব্যবহৃত হলে। যদিও অধিকাংশ খামারি, এর গুরুতর প্রভাব সম্পর্কে না জেনেই এগুলো ব্যাবহার করেন বা ব্যাবহার করতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ব্রিডিং পেয়ার কে অ্যান্টিবায়টিক প্রয়োগের কুফল সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়া হলঃ

ক) ব্রিডিং পেয়ার কে অ্যান্টিবায়টিক প্রয়োগের ফলে তা ডিমের মাধ্যমে বা খাওয়ানোর মাধ্যমে বাচ্চার উপর সরাসরি ক্রিয়া করে, আর এর শেষ ফলাফল বাচ্চার বৃদ্ধির অস্বাভাবিকতা।
খ) বাচ্চার অপূর্ণতা বা শারীরিক বিকলাঙ্গতা।
গ) ডিমের ভিতর বাচ্চার মৃত্যু।
ঘ) অ্যান্টিবায়টিক অতি প্রয়োগের ফলে কবুতরের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ঙ) অ্যান্টিবায়টিক অতি প্রয়োগের ফলে নরের শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়।(যদিও সব ক্ষেত্রে নয়।)
চ) খেয়াল রাখতে হবে যে,আপনি যে অ্যান্টিবায়টিক ব্যাবহার করছেন তা তা যেন আপনার কবুতরের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া না করে।
ছ) বাচ্চার হটাৎ মৃত্যু।
জ) খেয়াল রাখতে হবে যে,আপনি যে অ্যান্টিবায়টিক ব্যাবহার ফলে কোন প্রকার অদ্ভুত আচরন করছে কিনা। যেমনঃ এক জায়গায় বসে থাকা, বা টলমল করা, বা হটাৎ পড়ে যাওয়া বা বমি করা, বা সাড়া শরীর কাঁপা, বা লোম ফুলিয়ে বসে থাকা। এগুলো লক্ষণ অতি মাত্রায় অ্যান্টিবায়টিক প্রয়োগের অন্যতম কারন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

আপনি এ ধরনের পর্যবেক্ষণ যে শুধু ব্রিডিং পেয়ারকেই করবেন তা নয়। আপনাকে অন্য কবুতর গুলোর ক্ষেত্রেও এ রকম খেয়াল করতে হবে। প্রয়োজনে আপনি তাদের জন্য একটা ছক তৈরি করতে পারেন। মনে রাখবেন পূর্ণ বয়স্ক কবুতরের থেকে ইয়ং/তরুন বা বাচ্চা কবুতরই বেশী আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর তাই এদেরকে আগেভাগে চিকিৎসা ব্যাবস্থা করতে হবে। আপনার খামারের স্বাস্থ্য বিধি আপনার কবুতরের জন্ম থেকে পূর্ণ বয়স হবার পর মৃত্যু পর্যন্ত পালন করতে হবে। মনে রাখবেন প্রজনন কাল শুরু হবার একমাস আগে থেকে আপনি যেমন আপনার পাখিদের মধ্যে প্রোটিন মাত্রা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ প্রজনন ঋতু সময় ব্রিডিং পেয়ার খুবই চাপে (Stress) থাকে এই সময় প্রোটিন মাত্রা বৃদ্ধি প্রজনন ঋতু প্রস্তুতির জন্য সাহায্য করে থাকে। অতিরিক্ত ফিড প্রোটিন যুক্ত করে এটি করা যাবে। পাশাপাশি আপনাকে এর সঙ্গে ক্যালসিয়াম ও অত্যাবশ্যক ভিটামিন এবং পুষ্টির প্রদান নিশ্চিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

৩) প্রয়োজনীয় লবন ও মিনারেল এর ঘাটতিঃ

কবুতরের প্রজনন কালে লবনের ঘাটতি একটি মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। যদি আপনার মাস্টার পেয়ার বাচ্চা খাওয়াই আর এরই মধ্যে ডিম দেয় তাহলে এই সময়ে আপনার কবুতরের বাচ্চা ও মাস্টার পেয়ার কে একটু অধিক পরিমানে মিনারেলস(ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি যেগুলো ভাল মানের মাল্টি ভিটামিন এ পাওয়া যায়) ও লবনের ঘাটতি যাতে না হয় সে জন্য সব সময় গ্রিট সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কারন এর অভাবে মাস্টার পেয়ার ও বাচ্চার নানা শারীরিক সমস্যা সহ এর বেড়ে ওঠার প্রতিবন্ধকতা এমন কি মারাও যেতে পারে। লবনের ঘাটতি পর্যবেক্ষণের সবচেয়ে সহজ প্রক্রিয়া হল,

ক) তাদের পায়খানার পরিবর্তন হবে সেটা লক্ষ করাঃ লবনের ঘাটতি হলে তাদের পায়খানা পাতলা পানি পানি বেশী হবে, যার ফলস্রুতিতে কবুতরের বাসা সব সময় ভেজা বা স্যাঁতস্যাঁতে ভাব থাকবে, আর স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের কারনে বাসায় ব্যাকটেরিয়াসহ না জীবাণু জন্মাবে ও বাচ্চা খুব তাড়াতাড়ি আক্রান্ত হবে। কারন বাচ্চা অবস্থায় কবুতরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবচেয়ে কম থাকে।
খ) তাদের খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন হবে তা লক্ষ করাঃ কবুতরের লবনের ঘাটতি হলে তারা স্বাভাবিক খাবারের থেকেও একটু বেশী খাবার গ্রহন করে থাকে। লবনের ঘাটতি পুরনের লক্ষে। যদিও অনেকেই এটাকে একটি ভাল লক্ষণ বলে দাবি করে, কিন্তু আসলে তা ঠিক না। অনেক সময় গ্রিট বা অনেকেই গ্রিট এ নিদিষ্ট পরিমান লবন যোগ করতে ভুলে যান বা নিন্ম মানের গ্রিট এর অভাব থাকে ফলে গ্রিট অনেক সময় প্রয়োজনীয় লবনের ঘাটতি পুরনে বার্থ হয়। তবে আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, আপনি লবনের ঘাটতি পুরনের জন্য আবার কাঁচা লবন আপনার কবুতর কে খেতে দিবেন না এতে আপনার কবুতরের বিষক্রিয়া হয়ে মারা যেতে পারে। আর তাই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যেন এটার প্রতিরোধ করতে গিয়ে যেন জীবনের প্রতিরোধ না হয়ে যায়।
গ) অস্বাভাবিক আচরন করবে তা খেয়াল রাখাঃ অধিক লবন বা ঘাটতি কবুতরের মস্তিস্কে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। যদি আপনার কবুতর অস্বাভাবিক আচরন করে বা টলমল করে বা যদি দেখেন ঝুম ধরে বসে থাকে বা শুকনো পায়খানা ঠুকরে খাওয়া শুরু করে বা অনেক সময় বাচ্চা কে ঠোকর দিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে বা বাচ্চার রক্ত যুক্ত পড় খেতে থাকে বা ঠুকরাতে থাকে। তাহলে বুঝতে হবে আপনার কবুতর মারাত্মক লবন ঘাটতিতে ভুগছে। আর এই ঘাটতি আপনার কবুতরের নিয়মিত প্রজননে ব্যাপক ব্যঘাত ঘটতে পারে। প্রজননের ব্যাঘাত বলতে শুধু ডিম পাড়া বুঝায় না এর মধ্যে ডিম না জমা বা ছোট ডিম পাড়া বা ডিমের ভিতর বাচ্চার মারা যাওয়া ইত্যাদি অন্তভুক্ত। অনেক সময় লবনের বেশী ঘাটতি হয় যদি আপনি ঘন ঘন ডিম বাচ্চা করেন। বাচ্চা খাওয়ানোর সময় একটা কবুতরের অধিক লবনের ঘাটতি হয় আর এই সময় আপনি যদি পর্যাপ্ত লব সরবরাহ না করেন তাহলে তাদের দেহে সঞ্চিত লবন বাচ্চা খাওয়ানোর মাধ্যমে বের হয়ে যায় ফলে তারা অস্বাভাবিক আচরন করে থাকে। এমতাবস্থাই একজন অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাবস্থা নিতে হবে।

৪) সফল প্রজনননের প্রয়োজনীয় টিপস ও বাসা তৈরির অাভাসঃ

সফল প্রজনননের বয়স একটা বড় ব্যাপার। আর এ ক্ষেত্রে একটি প্রমানিত শর্ত যে মাদির থেকে নরের বয়স কম হলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। ভাল জাত পাবার আরেকটি ফর্মুলা হল আউট ব্রিডিং (ইন ব্রিডিং নয়) করতে হবে। আর এগুলো নিয়ে একজন ব্রিডার পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে কোনটি তার জন্য উপযুক্ত সেটা নির্ধারণ করতে পারে না। যখন একটা নর বা মাদি ডিম বা বাচ্চা উৎপাদনের প্রস্তুতি নেয় তখন এদের আলাদা ভাবে কিছু ভুমিকা পালন করে থাকে। যখন এরা ব্রিডিং বা প্রজননের আগে এরা একটা উপযুক্ত জায়গা বাছাই করে যেখানে তারা ডিম পাড়া ও বাচ্চা লালন পালন করতে পারে। তাই বাটি দিবার পরও অনেক সময় বাটিতে না পেড়ে খাচাই পাড়ে এর অর্থ হল সে তার জায়গা টা পছন্দ হইনি অথবা সেখানে পর্যাপ্ত আড়াল নেই। আর নররের জায়গা পছন্দ হলে মাদি কে ডাকে মাদির জায়গা পছন্দ হলে সেখানে সে বসে না হলে ওখান থেকে সরে যায়। কবুতর তার বাসা খুবই ঢিলেঢালা ভাবে তৈরি করে থাকে, আর আপনি যদি তার প্রয়োজনীয় উপাদান বা বাটি সময় মত সরবরাহ না করেন তাহলে সে ডিমটি পাড়বে ও ভেঙ্গেও ফেলবে। আর এভাবেই একটা কবুতরের ডিম ভাঙ্গা ও খাওার অভ্যাস গড়ে উঠতে পাড়ে। যার জন্য হয়ত আপনাকেই অনেক মূল্য দিতে হতে পারে এই অভ্যাস ছাড়ানোর জন্য। কবুতরের প্রজননের সময় অনেক খামারি হয় খেয়াল করেন না যে তাদের বাসায় বাচ্চা আছে। কারন বাচ্চা নেস্ট এ থাকা অবস্থায় ব্রিডিং পেয়ার ঠিক মত প্রজনন করতে পারে না কারন এ সময় বাচ্চা গুলো এসে খাবারের জন্য তাগাদা দেয় ফলে ব্রিডিং এ অসুবিধা হয়ে যায় বা ডিম পাড়ার পড় বাচ্চারা ঠিক মত তা দিতে দেয় না বা ডিম ফেলে দিতে পারে বাটি থেকে বা ডিমের ভ্রু নষ্ট করে দিতে পরে ডিম এর পর্দা ছিড়ে ফেলে বা যারা খোলা ভাবে পালেন তাদের সন্তানদের মাঝে যদি কোন নতুন বয়স্ক আলাদা নর থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে সেও একটা বড় বাধা হতে পারে এই ব্রিডিং পেয়ার এর জন্য। আর এর ফলাফল খুবই খারাপ হয়। আর এ সব কারনেই একজন ব্রিডার সফল ভাবে ব্রিডিং এ ব্যর্থ হন। এজন্য একজন ব্রিডারকে কিছু ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হয়। যেমনঃ

একজন ব্রিডার যিনি সফল ভাবে ব্রীড করাতে চান, তারা যেন খামার প্রতিস্থাপন সঠিক ভাবে করেন, যাতে একটি ব্রিডিং পেয়ার সফল ভাবে প্রজনন করতে পারে। বা বাচ্চা কবুতর বা ছাড়া কবুতর কে কোন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। আর এ কারনে বাচ্চা কবুতরের জন্য যারা নতুন ভাবে কেবল খেতে শিখেছে তাদের আলাদা জায়গায় রাখারা ব্যাবস্থা করে যেখান থেকে তারা তাদের জুটি নির্বাচন করবে জীবনের প্রথম থেকেই। আর এ ক্ষেত্রে ধাপরি হল সবচেয়ে ভাল জায়গা, কারন এখান থেকে বড় হবার আগেই তারা তাদের জুটি নির্বাচন করে ফেলে আর অবশ্যই এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন একটা জাত আরেকটা জাতের কবুতরের সাথে ব্রীড না করে বা জোড়া নিবার চেষ্টা না করে। কারন বেশী বয় হয়ে গেলে একজন ব্রিডার কে জোড়া দিবার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয় আর এই সময় তাদের মধ্যে মারামারি হবার সমুহ সভাবনা থেকেই যায়। কবুতর একবাড় ডিম বাচ্চা তুলার পর বাচ্চা ১৫ দিন বয়স থাকা অবস্থাই তারা পুনরায় প্রজনন শুরু করে দেয় আর এই সময়টাই বেশী খেয়াল রাখতে হয়।

৫) ডিম সংরক্ষণ ও ফসটারিং করাঃ

কিছু কবুতর আছে যারা তাদের ডিম সফল ভাবে ফুটাতে বা বাচ্চা লালন পালন করতে পারে না। তাদের মধ্যে কিং, স্ত্রেসার, পোটার ইত্যাদি অন্যতম। আর এ কারনে এদের ডিম গুলো চেলে দিতে হয় ফস্টার কবুতরের নিকট যাতে তারা সফল ভাবে ডিম ফুটাতে ও বাচ্চা লালন পালন করতে পারে। এটা খুব একটা জটিল কোন ব্যাপার না কিন্তু এটা সঠিক ভাবে করতে হয় বাচ্চাদের সঠিক বৃদ্ধি ও বাঁচানোর জন্য । সময় একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ডিম চালার ব্যাপারে, একজন খামারি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন ফস্টার বা প্রতিপালক পিতামাতা আসল ডিম পাড়া জোড়ার ডিম পাড়ার সময়ের পার্থক্য যেন ৩ দিনের বেশী না হয়। এর কারন হল যে ফস্টার পিতামাতা কে এর আগন্তক এর জন্য তৈরি হতে হয়। যদি সময়ের ব্যাবধান কম বা বেশী হয় তাহলে ফস্টার জোড়ার পর্যাপ্ত কর্প মিল্ক তৈরি হয় না ফলে বাচ্চার বৃদ্ধি ব্যাহত হয় বা বাচ্চা মারা যেতে পারে। আর যদি দেরিও হয় তাহলে ফস্টার জোড়া হয়ত ভাবতে পারে এটা অনুরবর ডিম তাই তারা ডিম কে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করতে পারে। একটা ডিম সংরক্ষণ বা চালান একজন খামারির মনমত হয় না। আর একটা কঠিন সময় এসে উপস্থিত হয়। একটা ডিম সংরক্ষণ ৩-৫ দিনের বেশী রাখা ঠিক না আর এটা করতে হবে খুবই সতর্কতার সাথে। যেমন আপনি যদি ডিম সংরক্ষণ করতে চান তাহলে তাপমাত্রার দিকে খেয়াল রাখতে হবে, আর এই তাপমাত্রা ১২ সেঃ থেকে ১৫ সেঃ ও ৭৫% থেকে ৮৫% আদ্রতা থাকা বাঞ্ছনীয়। আর দিনে কম পক্ষে ২ বার ডিমের পাশ পরিবর্তন করতে হবে। আর এটা অবশ্য নরম জায়গায় রাখতে হবে যেন ডিমের গায়ে কোন প্রকার ক্ষতি সাধন না হয়। ডিমে পানিতে চুবান বা বেশী পানিতে ধুয়া যাবে না। তবে তুলাতে করে মুছে নিতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে ময়লা ডিমের থেকে পরিস্কার ডিম ফুটার সভাবনা বেশী থাকে। এর কারন ডিমের অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। অনেকে মনে করেন ডিম ১০ দিন পর্যন্ত ধরে রাখা যায় কিন্তু এতে ডিম ফুটার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। ডিম যখন কবুতরের পেটের নিচ থেকে নেয়ার সময় হাতের তালু দিয়ে ধরবেন যাতে কবুতরের পাখার বাড়িতে বা ঠোঁটের আঘাতে ডিমের ক্ষতি সাধন না হয় বা বেশী তাড়াহুড়ো না হয় এতে কবুতর ভয় পেয়ে লাফ দিতে পারে আর তাতে কবুতরের পায়ে লেগে বাটি থেকে ডিম পরে গিয়ে ফেটে যেতে পারে। ডিম কোন ভাবেই ঝাকান যাবে না বা বেশী নাড়াচাড়া করা যাবে না এতে ডিমের ভিতরের মেমব্রেন বা পর্দা ফেটে গিয়ে ডিম নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৬) বাচ্চা কবুতরের যত্নঃ

বাচ্চা কবুতরের পরিচর্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি একটি প্রক্রিয়া। প্রথম জন্মের এর পর থেকে খুব রোগ প্রবন হয় অর্থাৎ অল্পতেই রোগাক্রান্ত হতে পারে। কবুতরের বাবা ও মা উভয়ই বাচ্চা কবুতরের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা দুজনেই পালা ক্রমে বাচ্চার দেখাশোনার জন্য সক্রিয় থাকে। কবুতর তাদের বাচ্চা খাওয়ানোর ও জন্মের পর থেকে প্রথম ১০ থেকে ১২ দিন মাদী বাচ্চাদের ঠোঁট তাদের মুখের ভিতরে নিয়ে সেখানে তরল সাদা জাতীয় পদার্থ বা খাবার বাচ্চাদের গলার ভিতরে পাম্প করে ঢোকাতে থাকে একটি milkish ধরনের আর এটিকে ক্রপ মিল্ক বলে। অনেকেই আছেন যারা মনে করেন কবুতরের বাবা মা যা খায় সেগুলো সরাসরি খাওয়ায়। আর তাই ভিটামিন ও মিনারেলস দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয় না। ১২ দিন পর থেকে তারা সরাসরি খাওয়ায় কিন্তু সব ক্ষেত্রেই গিট, মিনারেলস, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম দেয়া খুবই জরুরী বাচ্চার যথাযথ বৃদ্ধির জন্য সেটা খেয়াল রাখবেন। এভাবে মা বাবা ১৫-২০ দিন পর্যন্ত পালা ক্রমে খাওয়ায় এর পর শুধু বাবা এর দায়িত্ব নেয়। আর মা কবুতর আবার নতুন ভাবে তৈরি হয় পরবর্তী প্রজন্ম কে স্বাগত জানানোর জন্য, এরপর সে বাসা তৈরি করতে বা বাটিতে তে বসতে শুরু করে বা ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। বেবি কবুতর ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে খাওয়া শিখা শুরু করে পানিতে মুখ দেয় বাবা মা দের দেখা দেখি। আর এভাবেই তাদের শুরু হয় জীবনের আরেকটি অধ্যায়। এভাবেই আরও ৭ দিনের মধ্যে তারা নিজেদেরকে স্বয়ং সম্পূর্ণ করতে শিখে আর বাবা মা দের থেকে আলাদা হয়ে গেলেও তাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক রয়েই যায় বেশী কিছুদিন পর্যন্ত। যদিও তাদের বাবা ছাড়া নিজেদের দেখাশোনা করতে সক্ষম তার পরও সাধারণত বাচ্চাদের তদারক একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ আর এ জন্য পরিস্থিতির উপর নজর রাখা বিশেষ ভাবে আবশ্যক।একটা ব্যাপার আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে বাবা মা যখন বাচ্চাদের দেখা শুনা করে তখন খামারের ভিতরের তাপমাত্রা বা জলবায়ু পরিবর্তন হলে সেটা যাতে বেশী পার্থক্য না হয়। মনে রাখা দরকার যে সব বাবা মা ভাল ভাবে বাচ্চা দেখা শুনা করতে ও ডিম ফুটানোর জন্য উপযুক্ত না। অনেক সময় কিছু বাবা মা আছে যারা কিছুদিন ডিম তা দিবার পর ডিম থেকে উঠে পড়ে বা কিছু আছে বাচ্চা ফুটার পর তাদের খাওয়ায় না। সেক্ষেত্রে আপনাকে উপযুক্ত বাবা মার কাছে বাচ্চা বা ডিম চালতে হবে। তা না হলে আপনার লক্ষ্য ব্যাহত হবে। অনেক সময় ডিম ফুটার আগে বা পরে একটু খেয়াল রাখতে হয়। কারণ ডিমের জলিয় বাষ্পের কারনে, নোংরা হবার কারনে বা সাল্মনেল্লা জীবাণু আক্রমনের কারনে ডিমের ভিতরে বা বের হবার সময় বা কিছুদিন পর বাচ্চা মারা যেতে পারে। যদিও শুধু যে সাল্মনেল্লা এর কারণ তা নয়, অনেক সময় নানা ধরনের জীবাণুর ও ব্যাকটেরিয়া বা সংক্রমনের কারনেও মারা যেতে পারে। বিশেষ করে নাভি সংক্রমনে এর মৃত্যুর সংখাই বেশী। অনেক সময় বাচ্চা বাটিতে বাবা মার পায়ে পদ দলিত হয়ে মারা যায়। অনেকেই এ জন্য বাবা মা কেই দায়ী করে।।! আসলে বাচ্চা যখন মারা যায় তার পরই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। অনেকেই মনে করে ডিমের ভিতরে পর তারা শেল থেকে ফোটান পরে বাচ্চা কবুতরের মরে যাওয়াই এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমি বলব তারা জানেন না বলেই এরূপ কথা বলে থাকেন। বাচ্চা জন্মানর পর বাটি ও খাঁচা পরিস্কার করা। বেশী উষ্ণ বা স্যাঁতসেঁতে থাকা। বিশেষ করে যখন পরিষ্কার রাখা না হলে সেখানে জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটে। ফলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়। অনেকেই আছেন যারা বাচ্চা অবস্থা থেকে কবুতর কে নানা ধরনের অ্যান্টিবায়টিক ব্যাবহারের পরামর্শ দেন। বিশেষ করে আমাদের দেশের অভিজ্ঞ ভেটেনারি ডাক্তারগণ। আর অনেকেই দিয়েও থাকেন। কোন কারণ ছাড়াই যার ফলে বাচ্চা অবস্থা থেকেই একটি কবুতরের ব্রিডিং ক্ষমতা কমে যায়। ফলে বড় হয়ে ডিম জমে না বা ব্রিডিং এর সমস্যা দেখা যায়। মনে রাখতে হবে অ্যান্টিবায়টিক প্রতিরোধের মাধ্যম হতে পারে না। একটা কথা মনে রাখবেন কবুতররের শারীরিক গঠন অন্য প্রাণীদের থেকে একটু আলাদা তাই অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে যেভাবে চিকিৎসা করা হয় সেটার থেকে একটু আলাদা ভাবে চিকিৎসা করার চেষ্টা করুন। তাহলেয় হয়ত আপনার খামার অভীষ্ট লক্ষে পৌছাতে পারবে।

অনেকেই আছেন যারা পূর্ণ বয়স্ক কবুতর কিনতে পছন্দ করেন। তাদের লক্ষ্য থাকে কবুতর কিনবেন তাড়াতাড়ি ডিম দিবে তা থেকে বাচ্চা হবে। আর সেই বাচ্চা বিক্রি করে টাকা উপার্জন করতে থাকবেন। বাস্তবে এটা এত সহজ না। আর এভাবেই একজন নতুন খামারি তার খামারের শুরুতে এ ধরনের সমস্যা দিয়েই তার খামার শুরু করেন। অনেকেই আছেন যে কবুতরের সঙ্গে হাঁস মুরগির তুলনা করে থাকেন। তাদের ধারনা যে হাঁস মুরগির চিকিৎসা ও কবুতরের চিকিৎসা এক, হাঁস মুরগির রোগের ধরন ও কবুতরের রোগের ধরন এক, আর এভাবেই আমাদের দেশে কুসংস্কার ও ভুল চিকিৎসাতেই এই সেক্টর চলছে বছরের পর বছর। পৃথিবীর অনান্য দেশ এ ব্যাপারে নিজেদের কে উন্নত করে ফেললেও আমাদের দেশে এখনও সেই আগের বদ্ধমূল ধারনা নিয়ে বসে আছেন। যা থেকে প্রতিকার পাওয়া বেশ কঠিন। যাদের কাছ থেকে এ সব গাইড লাইন পাওয়ার কথা, তারাই আরও ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে থাকেন। তবে আশার কথা ইদানিং কিছু খামারি এসব ভুল ধারনার নাগপাশ থেকে বের হয়ে এসে সত্যিকার চিন্তাধারাই আসতেছে। আশা করি অচিরেই মানুষ কবুতর সেক্টরের সঠিক জ্ঞান অর্জন করে। কবুতর সেক্টর তাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

পরিশেষে, আল্লাহ্‌ বলেন,

“হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।” (সূরা আল বাক্বারাহ:আয়াত-২১)

লেখক : সোহেল রাবি ভাই

Continue reading …

171 total views, 2 today

আপনার কবুতরের গোসল (Bath for pigeons) Written By Kf Sohel Rabbi

Pigeon Discussion এপ্রিল 17, 2018

কবুতর অনেক কিছুর জন্য পরিচিত ও বিশ্ববিখ্যাত এবং বিভিন্ন কারণের জন্য এর চাহিদা রয়েছে। কবুতরের আকার, রং ও বিক্রয়ের জন্য কবুতরের পোষা পাখি হিসাবেও বেশ দেখা যায়। কবুতরের যত্ন এর সাথে সাথে এর কিছু ব্যাপারে আমরা সহজেই অনেক সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকতে পারি। কবুতরের পুষ্টিকর খাবার, ভিটামিন ছাড়াও আরও একটি গুরুত্তপূর্ণ ব্যাপারে যা আমরা অনেকেই খেয়াল রাখি না, সেটা কি? সেটা হল আপনার কবুতরের গোসল করান। যদিও ব্যাপারটা খুবই সাধারন কিন্তু এর গুরুত্ব অনেক, প্রাথমিক ভাবে বলা যায় যে আপনার পায়রার দেখাশুনা ছাড়াও অনেক অনাখাঙ্খিত রোগ বালাই থাকেও নিরাপদ থাকবে আপনার কবুতর।

পায়রার মালিক তাঁর কবুতর কিভাবে গোসল/ স্নান দিবে তাঁর একটা সঠিক নির্দশনা দেওয়া হলঃ

১। আপনি প্রায় হয়তো খেয়া করবেন যে আপনার কবুতরটি তাঁর পানির পাত্র টিতে স্নান করার চেষ্টা করছে এটাকে একটু ভালভাবে কিভাবে করান যায় তাই আলোচনা করবো।

  • যেমন একটা মাপসই ক্লিন ট্রে ক্রয় বা বানাতে হবে, সেটা প্লাস্টিক অথবা টিনের হতে পারে।
  • ট্রে টি কমপক্ষে বারো ইঞ্চি জুড়ে অধিক সাত ইঞ্চি গভীর ট্রে নির্বাচন করুন, পরিষ্কার জল তিন বা চার ইঞ্চি ট্রে পূরণ করুন।
  • ছোট পায়রার প্রজাতির জন্য অগভীর গভীরতা ব্যবহার করুন, দৈনিক মল মিশ্রিত হলে সঙ্গে সঙ্গে নোংরা জল পরিবর্তন করুন।
  • জলের তাপমাত্রার ব্যাপারটা মনে রাখবেন, মাত্রাতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা জল ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে ঠান্ডার সময় হাল্কা গরম পানি দেয়া যেতে পারে।

Continue reading …

158 total views, 2 today

বর্ষাকালীন মাসিক ছক ভিত্তিক কবুতরের খাদ্য Monthly pigeon food Chart of rainy season

Pigeon Discussion, Pigeon Food Chart অক্টোবর 3, 2017

বর্ষাকালীন সময়ে শীতের মতই একটু বেশী খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার কবুতরের খাদ্য পরিমিত তৈল বীজ যুক্ত থাকে। যেমনঃ বাজরা , তিসি, সরিসা, কুসুম বিচি, সূর্যমুখী বিচি ইত্যাদি। খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার খামার শুকনো থাকে, যদিও এই বর্ষায় এটা খুবই কঠিন একটা কাজ, আর সম্ভব হলে ছোট এক টুকরা কাপড়, পেপার, বা চট দিতে পারেন।

নিয়মিত ক্যালসিয়াম দিতে হবে, E+D ভিটামিন যোগ করে, কারন ভিটামিন ই যোগ না করলে ক্যালসিয়াম বেশি মাত্রাই শোষিত হবে না কবুতরের শরীরে।(মাসে ৩/৪ দিন, তবে যদি গরম বেড়ে যাই তবে এর মাত্রা কমিয়ে দিবেন।)। তবে খামার সব চময় ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করবেন। কারন ঠাণ্ডা থেকে গরমেই সমস্যা বেশী কবুতরের হয়।

আমরা উপরের বিষয় গুলো যদি পর্যালোচনা করি তাহলে, তিনটি বিষয় পরিলক্ষিত হয়ঃ

Continue reading …

1050 total views, 6 today

আপনার কবুতরের উপবাস Fasting of pigeon

Pigeon Discussion, Pigeon Diseases & treatment সেপ্টেম্বর 30, 2017

উপবাস (fasting of pigeon) খুব বিস্ময়কর শব্দ কিন্তু তার সত্যিকারের উপকারিতা আছে। আপনি আপনার কবুতর কে প্রতি সপ্তাহে বা ২ সপ্তাহে অন্তর বা অন্তত মাসে একবার উপবাস রাখুন। আমরা সবাই জানি সব পশু পাখি অধিকাংশ সময়ই তাদের Corp বা পেটে কিছু অতিরিক্ত খাবার সঞ্চয় রাখে প্রয়োজনীয় বা জরুরী অবস্থার জন্য বা অন্য যে প্রয়োজনে, আর যখন এই খাবার তারা হজম করতে পারে না, যখন তারা স্বাভাবিক ভাবেই খাদ্য পায়। তারা এই undigested / বা সঞ্চিত খাদ্য যখন হজম করতে পারে না, ফলে এটি Corp / পেট সংক্রমণ হতে পারে বা অন্য কোন ব্যাকটেরিয়া সমস্যা হতে পারে। তাই আমরা তাদের কিছু সময় রোযা/উপবাস রাখুন। (খাদ্য ও জল অন্তত ৪/৫ ঘন্টা ছাড়া) কিন্তু এই প্রক্রিয়া অসুস্থ যারা বা squab বা বাচ্চা আছে বা যারা ঔষধ অধীনে আছে এমন পায়রার জন্য প্রযোজ্য নয়।

মনে রাখবেনএই প্রক্রিয়া শুধুমাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য সমগ্র দিনের জন্য নয়। এই প্রক্রিয়া সকালে সময় প্রয়োগ করা উচিত। মনে রাখবেন এই প্রক্রিয়া পাখি / পায়রার হজম ক্ষমতা বাড়াতে ও আরও অনেক অপ্রত্যাশিত রোগ থেকে রক্ষা করবে এবং প্রয়োজনীয় এনজাইম বৃদ্ধি হবে।

লেখক : সোহেল রাবি ভাই

708 total views, 1 today

কিছু কবুতরের ঔষধ যা মজুত রাখা জরুরি

Pigeon Diseases & treatment ডিসেম্বর 24, 2016

“শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নাই, কেবল এক শক্তি থেকে আরেক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় মাত্র।“-(আলবার্ট আইনস্টাইন।)

আফ্রিকার হিংস্র প্রাণীর যদি তালিকা করা হয়, তাহলে প্রথমেই আমাদের মনে ভেসে উঠবে তা হল সিংহের ছবি ! কিন্তু বাস্তবে আফ্রিকার বেশী হিংস্রতার দিক দিয়ে জলহস্তীর নাম আগে আসে, অথচ মানুষ এই প্রাণীটিকে গুরুত্ব দেয় কম। সিংহের নাম আসে তিন নম্বরে, আর মানুষ সেই সিংহের হাত থেকে বাচতে গিয়ে হিংস্রতম জলহস্তীর মুখে পড়ে প্রান হারায়। আমাদের কবুতর সেক্টরে আমদানিকারকদের কে বেশী দায়ী করা হয়। এই সেক্টরের এই অবস্থার জন্য, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে যদি বিচার করি তাহলে ঘটনাটা অন্য জায়গায়। আমরা লক্ষ টাকা দিয়ে কবুতর কিনি, কিন্তু কুড়ি টাকা দিয়ে ঔষধ কেনা হয় না। আমরা হাজার টাকা দিয়ে খাঁচা বানায়, কিন্তু ১০ টাকা দিয়ে ফিডার তৈরি করা হয় না! শত টাকা দিয়ে মিক্স খাবার কেনা হয় কিন্তু বিনা খরচে সামান্য বিশুদ্ধ পানির ব্যাবস্থা করা হয় না।

Continue reading …

6985 total views, 9 today

নতুন কবুতর খামারে প্রবেশের আগে আপনার অবশ্য করনীয়।

Pigeon Discussion, Pigeon Diseases & treatment ডিসেম্বর 2, 2015

নতুন কবুতর

আমরা সবাই কম বেশি নতুন কবুতর ভালবাসি, আর তাই নতুন কোন কবুতর দেখলেই কিনতে ইচ্ছে করে। আর যদি সেটা ভাল জাতের হয় আর তার মধ্যে যদি দামটা নাগালের মধ্যে থাকে, তাহলেতো কথাই নাই। কিন্তু যে কোন কবুতর কেনার আগে ভাল করে পরখ করে কিনবেন। কারন আপনি হয়তো জানেন না যে আপনার নিজের অজান্তেই আপনি কি সমস্যা বাসায় বয়ে নিয়ে আসছেন। হইতো একটা সাধারন নতুন কবুতরের জন্য আপনার পুরো খামারের সব গুলোই কবুতর মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই হাট ও কবুতর ব্যাবসায়িদের কাছ থেকে কেনার সময় সতর্ক আরও একটু বেশি হবেন। শুধু তাই নয় শখের বসে আপনি হাটে গেছেন আর বাসাই ফিরে আপনার সখের কবুতরের কাছে গেছেন তাতে হইতো কবুতর না কিনেও আপনি জীবাণু বহন করে আপনার খামারে ছড়াচ্ছেন। হইত সাধারন ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সমস্যা আপনি খুব সহজেই সমাধান করে ফেলতে পারবেন কিন্তু জীবাণু যদি ভাইরাল হয় তাহলে মনে রাখবেন আপনি এত সহজে মুক্তি না ও পেতে পারেন। তাই নতুন কবুতর খামারে প্রবেশ করানোর আগে আপনার অতি জরুরি কিছু কাজ আছে যা আপনাকে অত্যান্ত সতর্কতার সাথে পালন করেতে হবে।

Continue reading …

10743 total views, 6 today

কবুতরের সাথে যোগাযোগ মাধ্যম টেলিপ্যাথি (Make a Relation with your Pigeons via Telepathy system) Written By Kf Sohel Rabbi

Pigeon Discussion জুলাই 11, 2015

Make a Relation with your Pigeons via Telepathy system

টেলিপ্যাথি শব্দটা শুনে হয়তো অনেকেই ভ্রু কুচকে ফেলেছেন আর ভাবছেন যে এটার সাথে কবুতরের কি সম্পর্ক?

অনেকেই হয়তো এরি মধ্যে মনে মনে সমালচনার ঝুড়ি সাজিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এটা একটা খুবই কার্যকরী প্রক্রিয়া যা হয়তো পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে এই ব্যাপারটি আপনাদের কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে।

যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার ব্যায়াম বা এর মত কিছু প্রক্রিয়া। অন্য ভাবে বলা যায় যে, উপলব্ধি সহ অন্য কিছু উপায়ে মনের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা।

এছাড়াও অনুভূতি , ইচ্ছা , আবেগ চিন্তার স্থানান্তরণ দ্বারা এই ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব।

“টেলিপ্যাথি” শব্দটির উদ্ভূত হয়েছে “টেলি” যার অর্থ ” দূরত্ব ” এবং “প্যাথি” যার অর্থ “অনুভূতি” শব্দ থেকে, সুতরাং টেলিপ্যাথি আসলে একটি দূরত্ব থেকে পাঁচটি পরিচিত ইন্দ্রিয় ব্যবহার না করে অনুভূতি সম্প্রসারিত করার জন্য পৃথক দুটি মনের মধ্যে যোগাযোগ কে , টেলিপ্যাথি বলে।

Continue reading …

5752 total views, 2 today

কবুতরের হিট স্ট্রোক বা তাপ জনিত সমস্যা ( Pigeons Heat Stroke and heat problem)

Pigeon Discussion, Pigeon Diseases & treatment জুন 7, 2015

“হে বুদ্ধিমানগণ! কেসাসের মধ্যে তোমাদের জন্যে জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার।“ (সূরা আল বাক্বারাহঃআয়াত-১৭৯)

আমি ২০১১ সালে কোন এক জুমাবারে আমাদের খতিব হুজুর জানালেন যে দাড়ি রাখা দায়িমি সুন্নত আর রাসুলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন, যে দাড়িতে ক্ষুর চালাই, সে যেন আমার বুকে ক্ষুর চালাই।“  কত বড় কথা দুই চোখ পানিতে ভরে গেল তাহলে আমি জিবনে এতদিন কত বড় অন্যায় ও পাপ করেছি ! আর এর জন্য মাফ পাব কিনা জানিনা। আর আমাদের কত বড় স্পর্ধা যে, আমরা এর পরও শুনি না বা শুনেই না শুনার ভান করি ! জেনেও না জানার ভান করি ! যে রাসুল(সাঃ) আমাদের জীবনের থেকেও প্রিয় যার জন্য জীবন দিতে যেকোন মমিন এ মুহূর্ত দেরি করবে না। তার কথার পরও কিভাবে মানুষ দাড়ি কাটে, সেদিন থেকে দাড়ি কাটা বন্ধ করে দিলাম। আজকাল বিভিন্ন নায়কদের দেখে মানুষ দাড়ি রাখতেছে নবীর ভালবাসাতে দাড়ি রাখতে ভাল লাগে না কিন্তু নায়কদের ভালবাসা তাদের দাড়ি রাখতে উৎসাহিত করে। তাও ত ভাল যে কোন না কোন উসিলায় ত তারা দাড়ি রাখছে ! যায় হোক সেদিন বাসে যাচ্ছি আমি চালকের পেছনের সীটে  বসা সামনের জানালা দিয়ে দেখলাম। একদল তাবলীগের কিছু মুস্লুল্লি যাচ্ছেন। সারি ভাবে এর মধ্যে একজন হাত দেখালেন। বাসে উঠার জন্য এর মধ্যে পাসের জন বলে উঠলেন “থামিয়েন না এরা সব সন্ত্রাসী” রাগ চড়ে গেল যদিও আমি তাবলীগ করিনা কিন্তু প্রত্যেক মুসলিম এর সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক ! আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম আপনি এদের কোথাই দেখেছেন সন্ত্রাস করতে তিনি সগর্ভে উত্তর দিলেন আরে আজকাল মিডিয়াতে দেখেন না ! আমি বললাম আপনি কোন মিডিয়ার কথা বলছেন পশ্চিমা মিডিয়া ? লোকটি এবার আমার দিকে ভাল করে তাকাল ! আমি বললাম ভাই এই দাড়ি ওয়ালা লোক ছাড়া আপনার জানাজা হবে না যদি আপনি মুসলিম হয়ে থাকেন সুধু তাই না আপনি তউবা করার জন্য এদেরকেই ডাকতে হবে এমন কি আপনার আমার মরার পর তথাকথিত কোরআন শরিফ যে পাঠ করাবেন লোক দেখান জয় সেটাও এরাই পড়বে কিন্তু কি আশ্চর্য বেচে থাকতে এ সব দাড়িওয়ালা লোকদের কে আমরা কতই না অবজ্ঞার চোখে দেখি!

Continue reading …

6719 total views, 1 today

কবুতরের টাল বা ঘাড় পক্ষাঘাত (Pigeon Neck Paralysis)

Pigeon Diseases & treatment মে 12, 2015

“হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না।নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।“( (সূরা আল বাক্বারাহ:আয়াত-২০৮)

ভারতে বলিউড এ এক জনপ্রিয় মুসলিম নামধারী নায়ক এক সাক্ষাৎকার এ বলেছিল যে, সে নাকি তিরপতি মন্দিরে সপ্তাহে একদিন না গেলে সেখানে পুজা না দিলে তার ভাল লাগে না। আর সেখানে সে মানত করে অনেক মনোবাঞ্ছা পুরন হয়েছে। একথা শুনার পর ভারতের দিল্লি মসজিদের খতিব তাকে এই উপদেশ দিয়েছিলেন যে, সে যেন আবার কালেমা পড়ে নেয়। এ কথাতে সারা ভারতের মোডারেট মুসলিম দের মধ্যে সেই খতিব সাহেবের বিরুদ্ধে সমালচনার ঝড় বয়ে গেছিল।

কে বলেছে এ সব কথা, উনি কি সব জানে নাকি? উনি একজন ভণ্ড (নাউজুবিল্লাহ), উনি কিছু না জেনেই এ কথা বলেছেন। ফতোয়া দেবার উনি কে? ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের দেশেও এই ধরনের মোডারেট মুসলিম দের সংখ্যা নিয়াতই কম না, কিছুদিন আগে পহেলা বৈশাখ নিয়ে সামাজিক সাইট গুলোতে এ নিয়ে অনেক পক্ষে বিপক্ষে অনেক লিখালেখি হয়েছিল। যে মূর্তি পুজা মাথাই করে নাচানাচি করা, বটগাছ পুজা করা ইত্যাদি কি ধরনের বর্ষবরণ তা আমাদের জানা নাই। আমিও এ রকম একটা পোস্ট দিয়েছিলাম আমার এক লিখাকে কেন্দ্র করে। পরের দিন এমনি এক মোডারেট মুসলিম নামধারি একজন লিখেছেন এটা কি ধরনের ফাজলামি, যে কেউ এটা করতে পারে, এতে করে যদি অশুভ শক্তি দূর হয় তাকে কি যায় আসে ? কেন এতে বাধা দিতে চায় মানুষ, এ সব মানুষ নামের কলঙ্ক এদের কে এদেশে থাকা উচিৎ না ইত্যাদি ইত্যাদি। পোস্টটা দেখে হতাস হলাম কিন্তু কষ্ট পেলাম না। হতেই পারে সবার মানসিকতা যে এক হতে হবে তা কে বলেছে।

Continue reading …

15969 total views, 9 today

কবুতরের জ্বর Fever of Pigeon

Pigeon Diseases & treatment মে 9, 2015

“মানুষ যেভাবে কল্যাণ কামনা করে, সেভাবেই অকল্যাণ কামনা করে। মানুষ তো খুবই দ্রুততা প্রিয়।“ (সূরা বনী ইসরাঈল:আয়াত-১১)

তুষার ভাই একজন কবুতর খামারি, তিনি অন্য খামারির মত একটু বেশী বুঝে থাকেন। একদিন আমাকে জানালেন যে তার কবুতরের অবস্থা খারাপ কেন? তিনি জানালেন যে তার কবুতরের জ্বর Fever of Pigeon হয়েছিল। আর তার ঔষধ হিসাবে তিনি প্যারাসিটামল খাওয়ায় দিয়েছেন। ফলে কবুতর এখন বমি করছে আর লোম ফুলিয়ে বসে আছে। এখন কি করা যায়। আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম তার যে জ্বর হয়েছে আপনি কিভাবে বুঝলেন? তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন যে, গায়ে তাপ অনেক বেশি কত বেশী এই ধরেন ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর ও বেশী। যাইহোক, যদিও সেটা তিনি না মেপেই আন্দাজের উপর বলেছিলেন। উনার মত আমাদের দেশে ৯৫% খামারির কবুতরের জ্বর সম্পর্কে সঠিক ধারনা নাই। আর এক্ষেত্রে প্যারাসিটামল খারাপ ভুমিকা পালন করে থাকে। এটি কিডনি ও লিভারের প্রভূত ক্ষতি সাধন করে, সকল জীবন্ত প্রাণীদের জন্য, যদিও আমাদের ক্ষেত্রে এটা জ্বরের প্রাথমিক ঔষধ হিসাবে প্রচুর ব্যাবহৃত হতে দেখা যায়। কিন্তু এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের কমই ধারনা আছে।

Continue reading …

7235 total views, 3 today

কবুতরের কান ও চোখের সংক্রমণ (Pigeon Ear and eye Infection)

Pigeon Diseases & treatment এপ্রিল 24, 2015

“অতএব, আপনি মৃতদেরকে শোনাতে পারবেন না এবং বধিরকেও আহবান শোনাতে পারবেন না, যখন তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে।“ (সূরা আর-রূমঃআয়াত-৫২)

আমার জন্ম স্থান রাজশাহী পদ্মা নদীর তিরে অবস্থিত, শীত ও গ্রীষ্মে যেমন ঠাণ্ডা অপর দিকে বর্ষা ও বানের সময় সেই প্রম্মত্তা পদ্মার রূপ দেখে ভয় লাগে। এ সময় পদ্মার কূল কিনারা থাকে না। প্রচণ্ড বাতাস আর ঢেউ থাকে। এই সময় আমরা নৌকা চালান তো দূরে থাক গোসল করতেও নামতাম না নদীতে, তখন বাসার কাছে পুকুরে গোসল সেরে নিতাম। আজ থেকে ৩০ বছর আগে এমন এক সময় বিকেলের দিকে চার জন অতি উৎসাহী তরুন ঘাটে বাধা মাছ ধরার জন্য ছোট নৌকা দড়ি খুলে ভ্রমনের উদ্দেশ্যে চড়ে বসল। পারে বসে থাকা কিছু মুরুব্বি তাদের বারন করার ব্যর্থ চেষ্টা করল। বলে রাখা ভাল বিকেলে জেলেরা এইসব নৌকা গুলোর পাটাতনের উপর বাঁশের যে মাচা থাকে ও বৈঠা নিয়ে যায় যাতে কেউ নৌকা নিয়ে যেতে না পারে বা কোন দুষ্ট ছেলেরা কিছু করতে না পারে। যাই হোক সেদিন সেই ছেলে গুলো নৌকা নিয়ে লাফা লাফি করতে করতে সেই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে মাঝ নদীতে গিয়ে ক্যাসেট ছেড়ে নাচানাচি করা শুরু করল। তাদের মধ্যে ১ জন সাতার জানত বাকী গুলো তেমন জানত না। কিন্তু সেই প্রতিকূল অবস্থায় সাতার জানা আর না জানা প্রায় সমান। তাদের সেদিন সেই জ্ঞান টুকু ছিল না যে মাচা ছাড়া পাটাতনের উপর নাচানাচি করার ফল কি হতে পারে? আর অবস্থা যখন প্রতিকূল ছিল। তাদের লাফা লাফি আর নাচানাচির এক পর্যায়ে নিচের পাটাতনের জোড়া খুলে গেল। আর পানি ঢুকে নৌকা তা চোখের পলকে ডুবে গেল। সেই ছেলে গুলো চিৎকার করতে লাগল বাঁচাও বাঁচাও বলে। কিন্তু হাজার হাজার লোক পারে দাড়িয়ে দেখতে লাগল।

Continue reading …

7596 total views, 7 today

কবুতরের অন্ত্রবৃদ্ধি (Pigeon Hernia) রোগ এবং প্রতিকার

Pigeon Diseases & treatment এপ্রিল 6, 2015

কবুতরের অন্ত্রবৃদ্ধি (Pigeon Hernia) রোগ এবং প্রতিকার

“যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।“(সূরা আল যুমারঃআয়াত-১৮)

সুমন ভাই একজন বড় খামারি, তিনি ২৫ বছর ধরে কবুতর পালন করেন তার নিজের বাসাতেই। সামাজিক সাইট গুলোতে তার তেমন আনাগুনা নাই। তাই আজকাল অন্য খামারিদের মত তার হাক ডাকও নাই। তিনি কবুতর শখে পালেন, আর যেহেতু তিনি সব সময় ব্যাবসা ও চাকরি ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। তাই তার এই শখের প্রাণীটির ব্যাপারে একটু কম সময় ব্যয় করতে পারেন, আর এজন্য দুঃখজনক হলেও সত্যি যে তিনি কবুতরের রোগ বালাই সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। তাই কেউ যখন তাকে কোন চিকিৎসা ব্যাবস্থা বলেন বা কোন ভেটেনারি ডাক্তারের শরানাপন্ন হন তখন তিনি সেক্ষেত্রে তার সাধারন জ্ঞান প্রয়োগ করার প্রয়োজন মনে করেন না এমনকি কেউ তাকে ৫টি অ্যান্টিবায়টিক একসাথে প্রয়োগ করতে বললেও তা করতে তিনি দ্বিধাবোধ করেন না। ফলে তার খামারে নানা সমস্যা সব সময়ই লেগেই থাকে। তার সাথে আমার ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেকদিনের, যেহেতু কবুতর সেক্টরে তিনি একজন সিনিয়র কবুতর পালক তাই সচারচর তিনি এব্যাপারে একটু নিরব থাকেন। একবার তিনি ভাগ্য ক্রমে আমাকে ফোন দিলেন। তার সমস্যা হল তার ভাষ্য মতে যে কবুতরের ডিম আঁটকে গেছে।

আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম, আপনি কিভাবে বুঝলেন?

Continue reading …

4872 total views, 3 today

কবুতর এর গ্রীষ্মকালীন খাবারের ছক

Pigeon Discussion, Pigeon Diseases & treatment মার্চ 31, 2015

কবুতর এর গ্রীষ্মকালীন খাবারের ছক

 

“তুমি বল, আমি আমার নিজের ক্ষতি কিংবা লাভেরও মালিক নই, কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই একেকটি ওয়াদা রয়েছে, যখন তাদের সে ওয়াদা এসে পৌঁছে যাবে, তখন না একদন্ড পেছনে সরতে পারবে, না সামনে ফসকাতে পারবে।“(সূরা ইউনুস:আয়াত-৪৯)

একবার এক কাকের মনে দুঃখ আসল যে, সে দেখতে সুন্দর না তাই সে খুজতে লাগল তার থেকে সুন্দর কে? দেখল একটা সাদা রাজ হাঁস তাকে দেখে সে মুগ্ধ হয়ে গেল এত সুন্দর !

তাকে সে জিজ্ঞাস করল ভাই তুমি এত সুন্দর কিভাবে?

রাজহাঁস জবাব দিল ভাই আমিও তোমারি মতই নিজেকে সুন্দর ভাবতাম! যতদিন না সবুজ লাল টিয়াপাখিকে দেখলাম! টিয়ার সৌন্দর্যের কাছে আমার সৌন্দর্য কিছুই না! কাঁক এ কথা শুনে টিয়ার কাছে গেল তার সৌন্দর্য দেখতে।

Continue reading …

6463 total views, 1 today

প্রতিপালক কবুতর (Pigeon Fostering)

Pigeon Discussion ফেব্রুয়ারী 25, 2015

কিছুদিন আগে একটা ব্যাপার নিয়ে এক গ্রুপ এ বেশ তর্ক হচ্ছিল যে fostering or frostering  কোনটা সঠিক। অনেকে frostering শব্দটা ব্যবহার করতে বেশি সাছন্দ বোধ করছিলেন কারন frost মানে যেহেতু জমা আর ডিম জমানোর জন্য যেহেতু এটা করা হয় তাই । কিন্তু কবুতরের জন্য frostering ব্যবহার করা হয়ই না, এটার আসল শব্দ pigeon fostering এর আভিধানিক অর্থ কবুতর প্রতিপালক। যে প্রতিপালন করে। সাধারণত fostering কেন করা হয় এবং কোন জাতের কবুতর fostering এর জন্য ভাল?

কিছু কবুতর তাদের ডিম পাড়ার  পর তা/অম দেয় না এই ধরনের কবুতরের ডিম অন্য কবুতরের কাছে চেলে দিতে হয়। যদি তা না করা হয়ই তাহলে ডিম নষ্ট হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ডিম চেলে দেয়া ভাল, বা কোন কবুতর একটা সময় পর তার বাচ্চা কে খওয়াই না, এই ধরনের পরিতাক্ত বাচ্চা কে পালন করার জন্য fostering করা হয়। fostering জোড়া সেই কবুতর হতে হয় যারা ভাল খাওয়া তে পারে ও শারীরিক ভাবে সবল বা foster সাধারণত সেই সব কবুতর নির্বাচন করা উচিৎ যে গুলো ভাল মারকিং না, বা বাজারে এর বাচ্চা ভাল দাম পাওয়া যাবে না এই রকম কবুতর । ডিম চালা ও fostering এর ক্ষেত্রে কিছু পাবারে খেয়াল রাখতে হবেঃ

 

Continue reading …

4186 total views, 1 today

ভুল সবই ভুল (কবুতর কেস স্টাডি)

Pigeon Discussion, Pigeon Diseases & treatment ফেব্রুয়ারী 10, 2015

ভুল সবই ভুল (কবুতর কেস স্টাডি)

“যে দেশে গুণের সমাদর নেই সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না” – ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

ওলী মনসুর হাল্লাজ (রহ:) একজন মুসলিম সাধক ছিলেন। তিনি ৮০ বছর বয়সে আল্লাহ্‌র ধ্যানে মসগুল হন। বেশ কিছুদিন পর তিনি হঠাৎ নিজেকে ‘আনাল হক’ বলে দাবী করে উঠলেন। মানে ‘আমিই খোদা’। আর এ ধরনের কথা ইসলামে নিষিদ্ধ ও কুফরের অন্তভুক্ত। এই অভিযোগের অপরাধে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তাকে প্রথমে দোররা মারা হল, কিন্তু তাতে তার মৃত্যু হয় না। এবার তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকর করার আদেশ হল। তাকে যখন ফাঁসিতে ঝুলানর জন্য নেয়া হল। তখন কোনমতেই তার মৃত্যু হল না। ফলে তাকে এনে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হল কিন্তু তার শরীরের প্রতিটি কনা ‘আনাল হক’ জিকির করতে লাগল। ফলে তেল ঢেলে তাতে আগুন দিয়া হল। কিন্তু তাতেও কাজ হল না। আগুনে পুড়ানো প্রতিটি কয়লা একই ভাবে জিকির করতে লাগল। এবার সেই কয়লা গুলো টাইগ্রিস নদীতে ফেলে দিলে ঘটল বিপত্তি। নদী ভীষণ ভাবে ফুলে বাগদাদ নগরির দিকে ধেয়ে আসতে লাগল। এটা দেখে তার এক শিস্য ওলী মনসুর হাল্লাজ (রহ:) একটি জামা এনে নদীতে ফেলে দিলে নদী শান্ত হয়। এরপর অভিযোগকারী বুঝতে পারলেন তারা কী ভুল করলেন। সবাই ছুটে গেলেন আরেকজন ওলীর কাছে ব্যাখ্যা চাইতে। তিনি জানালেন, ‘আল্লাহর সাথে মুনসুর হাল্লাজের (রহ:) এত গভির সম্পর্ক হয়ে যাওয়ায়। সে যা বলতে চাচ্ছিল সাধারন মানুষ তা বুঝতে ব্যর্থ হয়। আসলে তিনি বলতে চেয়েছিলেন যে ‘আনাল হক’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ্‌ সত্য’ আর এই জিকির তার রূহে, তার চিন্তা চেতনায় আল্লাহ্‌র জিকির এমন ভাবে বসে গেছিল যে তা থেকে এমন জিকির প্রতিধ্বনি হচ্ছিল।

Continue reading …

4032 total views, 1 today

আমরা কি ধরনের খামারি ? (কবুতরের কেস স্টাডি)

Pigeon Discussion, Pigeon Diseases & treatment জানুয়ারী 7, 2015

আমাদের দেশে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে যে ধরনের হ জ ব র ল শিক্ষা ব্যাবস্থা, আমার মনে হয় দেশের ৯০% শিক্ষার্থীর এই সময়টা খুব একটা সুখকর ভাবে কাটে না। আমি স্কুল জীবনে খুব একটা ভাল মানের ছাত্র ছিলাম না কিন্তু সব সময়ই প্রথম বেঞ্চিতে বসতাম, আমার স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হলেও আমার জন্য সেই জায়গাটা বরাদ্দ থাকত। প্রথম বা দ্বিতীয় ক্যাপ্টেন আমার জন্য সেই জায়গাটা রেখে দিত। যাই হোক, আমাদের প্রধান শ্রেণী শিক্ষক আমাদের, অংক, ইংরেজি, গ্রামার ও বিজ্ঞান ক্লাস নিতেন। প্রতিদিন ১০ টা অংক, ১ টা প্যারাগ্রাফ, ১০ টা অনুবাদ, ছাড়াও বিজ্ঞানের কোন না কোন বাসার কাজ দিতেন। সমাজ বিজ্ঞান শিক্ষক তো আরেক খাড়া উপরে তিনি প্রতিদিন ২ পাতা করে সমাজ বিজ্ঞান এর সেই কঠিন পড়া মুখস্থ করতে দিতেন আর পরদিন সেগুলো দাড়িয়ে তার সামনে বলতে হত না দেখে তিনি সামনে এমন ভাবে ছড়ি ঘুরাতেন যে জানা পড়াও অনেক সময় ভুলে যেতাম, বা যারা ভাল ছাত্র ছিল তারাও পর্যন্ত তার হাত থেকে রেহাই পেত না যদি না সে উনার কাছে প্রাইভেট পড়ত। এর পর ইসলামিয়াত শিক্ষক বিভিন্ন সুরার শানে নযুল ও সূরা গুলো মুখস্থ করতে হত।

Continue reading …

2353 total views, 2 today

Page 1 of 51 2 3 5
  • কবুতরের সাধারন সমস্যা ও চিকিৎসা

    by on এপ্রিল 19, 2018 - 0 Comments

    “বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ।” (সূরা বাকারাহঃআয়াত-১৯১) একবার আমার এক সাথী বললেন যে, তিনি এক তথাকথিত পীর সাহেবের বাড়িতে সন্ধ্যার সময় গেলেন। দেখলেন পীর সাহেব আয়েস করে সোফাতে আধা শায়িত অবস্থায় টিভিতে হিন্দি চ্যানেলে গান দেখছেন। এর মধ্যেই মাগরিবের আযান দিলে। পীর সাহেব শিলা কি জওয়ানি… দেখতে থাকলেন। তার […]

  • কবুতরের জুড়ী প্রস্তুত প্রণালী ও আদর্শ প্রজনন পদ্ধতি

    by on এপ্রিল 18, 2018 - 0 Comments

    কবুতরের জুড়ী প্রস্তুত প্রণালী ও সঠিক/আদর্শ প্রজনন পদ্ধতি (Pigeon Pairing and Ideal Breeding System ) “আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।” ( আল কোরআনঃ সূরা আয- যারিয়াত- আয়াত-৪৯) সামাজিক সাইট একদিকে যেমন ভাল লাগে অন্যদিকে তেমনি খারাপ লাগে সেই সব উজবুক ছেলে মেয়াদের জন্য যাদের জ্ঞান কম। যাদের স্ট্যাটাস দেখলেই […]

  • আপনার কবুতরের গোসল (Bath for pigeons) Written By Kf Sohel Rabbi

    by on এপ্রিল 17, 2018 - 0 Comments

    কবুতর অনেক কিছুর জন্য পরিচিত ও বিশ্ববিখ্যাত এবং বিভিন্ন কারণের জন্য এর চাহিদা রয়েছে। কবুতরের আকার, রং ও বিক্রয়ের জন্য কবুতরের পোষা পাখি হিসাবেও বেশ দেখা যায়। কবুতরের যত্ন এর সাথে সাথে এর কিছু ব্যাপারে আমরা সহজেই অনেক সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকতে পারি। কবুতরের পুষ্টিকর খাবার, ভিটামিন ছাড়াও আরও একটি গুরুত্তপূর্ণ ব্যাপারে যা আমরা অনেকেই […]

Bumblefoot Gorguero pouter kobutor pigeon pigeon medicine Pigeon Scabies tonsil Weak Leg Wings Paralysis অবিশ্বাস্য কবুতর অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আমার পছন্দের কবুতর এই বর্ষায় সবার জন্য একটি বিশেষ অনুরোধ এলোপ্যাথি(allopathic) কবুতর কবুতর অসুস্থতা কবুতর পালন কবুতরের কবুতরের/পাখির উপর অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কবুতরের / পাখির ডিম আটকানোর (Egg binding ) কারন ও চিকিৎসা কবুতরের একজিমা কবুতরের কাউর কবুতরের কৃমি বা কীট রোগ কবুতরের গ্রিট কবুতরের চিকিৎসা কবুতরের ডিম কবুতরের ডিম আটকানোর কবুতরের দুর্বল পা কবুতরের পাঁচড়া কবুতরের ভিটামিন কবুতরের রক্ত আমাশয় কবুতরের রিং কবুতরের রোগ কিভাবে নর ও মাদি কবুতর চিনবেন ? টনসিল ডিম নর কবুতর পক্ষাঘাত পছন্দের কবুতর পাখির পা পাখির পায়ে ক্ষত মলের মাধ্যমে কবুতর অসুস্থতা শনাক্তকরণ মাদি কবুতর সংক্রামক করিজা হোমিও (Homeopaths)

Search Here