কবুতরের (pigeon) শত্রুদের থেকে সাবধান (কেস স্টাডি)

কবুতরের (pigeon) শত্রুদের থেকে সাবধান (কেস স্টাডি)

এক ধান ক্ষেতে এক পাখী বাসা বানাল। কিছুদিন পর পাখী দম্পতী ডিম দিল ও বাচ্চা ফুটল। দিন যাই মাস পার হল। পাখীর ছানা গুলো বেশ বড় হল। সেই সাথে ধান ক্ষেতের ধান ও পাকল। একদিন মা পাখী সন্ধ্যার সময় ঘরে ফিরলে তার বাচ্চা গুলো বেশ অস্থির ও উত্তেজিত হয়ে তার মাকে জানাল, যে দুইজন লোক এসে বলছিল যে কালকে ধান কেটে নিবে। তার মা তাদের জিজ্ঞাস করল। তারা কী বলছিল? ছানা গুলো বলল তারা একজন আরেকজনকে বলছিল যে, কালকে তোর মামাদের সঙ্গে নিয়ে ধানগুলো কেটে ফেলবো। মা পাখী বলল, না আমাদের হাতে এখনো সময় আছে। আরেকদিন মা পাখী সন্ধ্যার সময় ঘরে ফিরলে তার বাচ্চা গুলো আরও বেশী অস্থির ও উত্তেজিত হয়ে তার মাকে জানাল। সেই দুজন লোক আবার এসেছিলো। মা পাখী তাদের জিজ্ঞাস করল তারা কী বলছিল, ছানা গুলো বলল তারা একজন আরেকজনকে বলছিল যে কালকে তোর চাচাদের সঙ্গে নিয়ে ধানগুলো কেটে ফেলবো। মা পাখী বলল, না আমাদের হাতে এখনোও আরও সময় আছে। ছানা গুলো বেশ হতাশ ও ভীত হল। পরেরদিন আবার একই ঘটনা ঘটল। এবার মা পাখী জিজ্ঞাস করল তারা কী বলছিল। ছানা গুলো বলল, যে তারা বলছিল তোর মামা বা চাচারা কেঊ ত আসল না, কাল আমরাই ধানগুলো কেটে ফেলবো। মা পাখী বলল এবার আমাদের যাবার সময় হয়েছে। এটি একটি ছোট্ট নৈতিক শিক্ষনিয় গল্প, এ থেকে আমরা কি শিক্ষা পাই?

আমার এক ছোট বেলার বন্ধু আমেরিকায় থাকে, সে আমার মাঝে মাঝে ফোনে কথা বলে, সেদিন সে আমাকে জানাল যে, দোস্ত কোন কোন দেশ যখন বলে বাংলাদেশের অবস্থা ভাল না তখন, আমি খুশি হই, কেন? কারন সেই সব দেশ যখন একথা বলে তার মানে আমাদের দেশের অবস্থা প্রকৃত পক্ষে ভাল। আর যখন সেই সব দেশ বলে বাংলাদেশ তার লক্ষে আছে, তারা সব দিক দিয়ে উন্নতি করছে ইত্যাদি ইত্যাদি বিশেষণে ভুশিত করে তখন আমি চিন্তিত হয়ে পড়ি, মনটা খারাপ হয়ে যাই। আমাদের কবুতর এর সেক্টরের অবস্থাও ঠিক সে রকম। আমাদের এই সেক্টরের কিছু গুনি লোক আছেন যারা হটাত হটাত এই সেক্টর কে নিয়ে বেশী চিন্তিত হয়ে পড়েন। তখন নানা ধরনের কর্ম কাণ্ডে (অপকর্মে) জরিয়ে পড়েন। তখন আমার বন্ধুটির মত আমিও চিন্তিত হয়ে পড়ি এক অজানা শঙ্কায়।

আমাদের দেশে ৩ ধরনের <a href="http://pigeon.bdfort viagra maroc prix.com/”>কবুতর (pigeon) পালক আছেন। (এক) যারা অনেক অনেক অভিজ্ঞ, ভাল জানেন, তাদের অফুরন্ত জ্ঞানের ভাণ্ডার! কিন্তু কার সাথে শেয়ার করেন না, বা করতে চান না। (দুই) মোটামুটি জানেন, আর চেষ্টাও করেন। (তিন) কিছুই জানে না কিন্তু ভাব করে অনেক কিছুই জানে, এরা আরেকজনের বুলি আউরাতে থাকে, নিজের কোন জ্ঞান নাই, ঠিক পরগাছার মত।

পবিত্র কোরআন এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ বলেছেন,” যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে।” (সূরা বনি ইসরাইল আয়াতঃ ৩৬)

এ রকম একজন আমাকে বলেছিলেন, ভাই লাভ কি উপকার হলে ত নাম করবে না, কিন্তু সমস্যা হলে বদনাম করতে পিছপা হবে না। কি অবাক করা কথা! কিছু আছেন নিজেদের গুটিয়ে রাখেন। কোরআনে আল্লাহ্‌ বলেন,”যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে, একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।” (সূরা আন-আম, আয়াতঃ১৬০)

আর কিছু আছেন যারা, সুযোগ সন্ধানী তারা অপেক্ষা করেন। ঠিক সেই মুচির মত যে কবে তার জুতা ছিঁড়বে আর কবে সে আমার কাছে সারাতে আসবে। (বলা বাহুল্য, মুচিরা কিন্তু আপনার জুতা বা স্যান্ডেল ভাল মত ঠিক করবে না, তারা আপনার জুত সারানোর চামড়া দিয়ে সারাবে যাতে ২ দিন পর আবার ছিরে আর আপনি আবার তার কাছে যান।) যাই হোক, এই ধরনের কিছু লোক আছেন যারা যত বুজরুকির কর্ণধার। তারা মনে করেন তাদের জ্ঞান ওহি মারফত প্রাপ্ত, তাই তারা যে তথ্য বা উপাত্ত বা তারা যে কথা বলবেন সেটাই সঠিক, আর এর কোন পরিবত্তন নাই। যেহেতু সেটা ওহি মারফত প্রাপ্ত। এই ধরনের জ্ঞানী লোকজন প্রতিনিয়ত নানা মতবাদ এই সেক্টরে প্রতিনিয়ত প্রচারে (অপপ্রচারে) ব্যাস্ত থাকেন।

আল্লাহ্‌ কোরআনে আর বলেছেন, “যদি তোমাদের কোন মঙ্গল হয় তারা দুঃখিত হয়, আর তোমাদের অমঙ্গল হলে তারা আনন্দিত হয়। এবং তোমরা যদি ধৈর্য ধর এবং সাবধান হয়ে চল তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কিছুই করতে পারবে না। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।” (আল ইমরান,আয়াতঃ১২০)

এ রকমই এক জ্ঞানী প্রথম শ্রেণিতে একজন নামকরা বিশ্ববিখ্যাত (যদিও তার অনুসারীদের কথা বা তথ্য মতে) এই শ্রেণীর এক লোকের সঙ্গে বেশ কিছুদিন আগে এক গ্রুপ এ তর্ক হয়েছিল। আর এই রকম তিনি আমারই এক পোস্ট এর সমালোচনা করে বলেছিলেন, যে ‘ধনে পাতা’ নাকি সেক্স শক্তি কমিয়ে দেয়। কি মারাত্মক ও ভয়ানক কথা। মাথার চুল খাড়া হয়ে গেল, চিন্তিত হয়ে পড়লাম। আমাদের দেশে ধনে পাতা পছন্দ করে না এমন লোক খুজে পাওয়া কঠিন ।তাহলে কি আমাদের সবার……। মনে সাহস সঞ্চয় করে তাকে প্রস্ন করলাম ভাই, আপনি এই তথ্য কোথাই পেলেন? তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে বললেন পেয়েছি। ( আমার তখন অবশ্য জানা ছিল না যে তার কাছে ওহি আসে…।) আমি তাকে আবারও জিজ্ঞাস করলাম ভাই একটু বলবেন যে, কিভাবে আপনি জানলেন এটা? কারন এর সঙ্গে আমার ও আমাদের পারিবারিক শান্তি/অশান্তি জরিত…! ভাই একটু বলেন, তিনি সেই আবারও বিজ্ঞের মত বললেন। এরই মধ্যে পীর সাহেবের সাথে বেয়াদবি করার জন্য তারই কিছু অনুসারী, সঠিক বেঠিক চিন্তা না করে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লেন। আপনার সাহস ত কম না! আপনি বাংলাদেশের বেস্ট ডক্টর এর সাথে এ ভাবে কথা বলছেন আপনি জানেন উনি কে? ইত্যাদি ইত্যাদি। হতবাক হয়ে গেলাম! আমার অপরাধটা কি বুঝে পেলাম না। সূর্যের চেয়ে বালি গরম বেশী কথাটা এতদিন শুনেছিলাম সেদিন সেটা বাস্তবিক দেখলাম।

আল্লাহ্‌ বলেন,”আর এমনিভাবে আমি প্রত্যেক জনপদে অপরাধীদের জন্য কিছু সর্দার নিয়োগ করেছি-যেন তারা সেখানে চক্রান্ত করে। তাদের সে চক্রান্ত তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই; কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না।” (সূরা আন-আম, আয়াতঃ১২৩)

যাইহোক সেদিন অনেক তথ্য উপাত্ত দিয়েও তাকে বুঝান যাই নি। যদিও তার মতামতের স্বপক্ষে একটিও তথ্য ও প্রমান দেখাতে পারেন নি সেদিন। কিন্তু কি যায় আসে। পীর সাহেব বা বেস্ট ডক্টর বলে কথা। উনারা যাই বলবেন সেটাই ত সঠিক বানীর মত। আর আমরা যারা আছি তারা মাথা নিচু করে মেনে নিব জি স্যার জি স্যার বলে, সেই দিন কি আর আছে? আমি সেদিন তাদের একটা কোথাই বলেছিলাম, যে আল্লাহ্‌ যাকে সম্মানিত করতে চান, তাকে কেউ বদনাম করতে পারবে না, আর যাকে বদনাম করতে চান, তাকে বাঁচানোর কেউ নাই। যাই হোক, সেই সব পীর সাহেবেরা আবার সক্রিয়, কারন কি…? কোন কারন নাই, মানুষ এখন অনেক সচেতন, এখন আর মানুষ আগের মত কোন কিছু বললেই বিশ্বাস করবে না, তারা ফলাফল চায়।

পবিত্র কোরআন এ আল্লাহ্‌ বলেছেন, “আর যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের মত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহ্‌র পথ থেকে বিচ্যুত করবে,তারা শুধু অনুমানের অনুসরন করে। আর তারা সুধুই মিথ্যা বলে।”(সূরা আনা-আম,আয়াতঃ১১৬)

বলে রাখা ভাল এই পীর সাহেবের স্বপ্নে পাওয়া একটা ঔষধ আছে, যেটা প্রয়োগ করলে, আপনার কবুতরের সমস্থ রোগ বালায় থাকে চিরতরে মুক্তি পেয়ে যাই। আমাদের কবুতর সেক্টরের অধিকাংশ লোক সহজ সরল, তারা এই প্রাণীটিকে এত ভালবাসে যে প্রথম দিকে জ্ঞান শূন্য হয়ে যে যা বলে তাই পালন করে, যতক্ষণ না তার কিছু মূল্য দিতে হয়। আর এই পর্যায়ে তারা পশু হাসপাতালের সেই ডাক্তারদের সরানাপন্ন হন। আর হয়ত অনেকেরই জানা আছে, তাদের সব রোগের একটাই ঔষধ সিপ্রসিন বা রেনামাইসিন…সেই স্বপ্নে পাওয়া ঔষধের মত। যাইহোক আগের প্রসঙ্গে ফিরে যাই। অনেকে ভাবতে পারেন ভাই তাহলে এই বিশেষজ্ঞ রা আবার সক্রিয় কেন হল।

আল্লাহ্‌ বলেন, “তবে কোন সম্প্রদায়ের ধোঁকা দেয়ার ব্যাপারে যদি তোমাদের ভয় থাকে, তবে তাদের চুক্তি তাদের দিকেই ছুঁড়ে ফেলে দাও এমনভাবে যেন হয়ে যাও তোমরাও তারা সমান। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধোকাবাজ, প্রতারককে পছন্দ করেন না।”(সূরা আল আনফাল, আয়াতঃ৫৮)

এই প্রসঙ্গে একটা কথা মনে পড়ে গেল, আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি তখন, রাজশাহী মেডিক্যাল এর উদ্দগে একটা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম। সেখানে একটা রম্য নাটকে, ৩ শয়তান তাদের বসের কাছে আসল, সারাদিনের তাদের কাজের ফিরিস্তি দিতে, কে কি করেছে। যার ফলাফলে তাদের পুরস্কৃত করা হবে। সেই ভাবে প্রথম শয়তানকে জিজ্ঞাস করল, তুমি কি করেছ? ওস্তাদ আমি একজন ছাদ থেকে পড়ে যাচ্ছিল তাকে বাচিয়েছি, কেন? কারন সে ত মরে গেলে শহিদ হয়ে বেহেস্তে চলে যেত তাই। বাহবা বাহবা…ভাল কাজ করেছ, তাকে একটা ছোট হাড্ডি উপহার দিয়া হল। এরপর ২য় শয়তানকে জিজ্ঞাস করল। তুমি কি করেছ? সে বলল, ওস্তাদ আমি একজন ছেলে ও মেয়ের মধ্যে প্রেম/ভালবাসা করে দিয়েছি, কেন? ওস্তাদ এতে মেয়েটি ছেলেটিকে ডেটিং এ নিয়ে গিয়ে ফতুর করে ফেলবে, আর ছেলেটি ডেটিং এর টাকা যোগার করতে গিয়ে,চুরি চামারি শুরু করে দিবে। বাহবা বাহবা…ভাল কাজ করেছ, তাকে একটা মধ্যম হাড্ডি উপহার দিয়া হল। এবার ৩য় শয়তানকে জিজ্ঞাস করল। তুমি কি করেছ? সে বলল, ওস্তাদ আমি একজন ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে করিয়ে দিয়েছি…। এবার তার ওস্তাদ জারপনায় খুশি হয়ে তাকে সবচেয়ে বড় হাড্ডিটি উপহার দিয়ে ফেলল। (মাফ করবেন, আমি কাউকে শয়তান বলে আখ্যায়িত করছি না বা সেই ধৃষ্টতা আমার নাই।) আর নাটকের ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। কিন্তু মাঝে মাঝে এই ধরনের মানুষের অযাচিত কথা বা কাজ এই নাটকের কথা মনে করিয়ে দেয়।

আল্লাহ্‌ বলেন,”আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারও প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচন্ড বাতাস, কাউকে পেয়েছে বজ্রপাত, কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি নিমজ্জত। আল্লাহ তাদের প্রতি যুলুম করার ছিলেন না; কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে।“(সূরা আল আনকাবুত আয়াতঃ৪০)

সময় এসেছে বন্ধু চিনে নিবার, আর আপনি যদি আপনার সঠিক বন্ধুটিকে চিনে নিতে না পারেন, তাহলে আপনার সবকিছুই বৃথা হয়ে যাবে। কিছু লোক যারা আপনার, আমার ও আমাদের ক্ষতি সাদন করার জন্য সদা প্রস্তুত। তাদের কাজ একরকম কিন্তু উদ্দেশ্য আরেকরকম।

আল্লাহ্‌ পবিত্র কোরআনে বলেছেন,“হে বিশ্বাসীগন!তোমাদের আপনজন ব্যাতিত অন্য কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরুপে গ্রহন করনা।তারা তোমাদের বিভ্রান্ত(অনিষ্ট)করতে ত্রুটি করবেনা, যা তোমাদের বিপন্ন করে তাই তারা কামনা করে। তাদের মুখে বিদ্বেষ প্রকাশ পায় এবং যা তারা অন্তরে গোপন রাখে তা আরও গুরুতর। তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করছি, যদি তোমরা অনুধাবন কর। ”(সূরা আল ইমরান, আয়াতঃ১১৮)

মূল লেখক : সোহেল রাবি ভাই

মার্চ 28, 2014 2:51 অপরাহ্ন

6341 সর্বমোট দেখা হয়েছে, 2 আজকে