ঈনব্রীডীং (Inbreeding) (সংশোধিত ও পরিমার্জিত) দূরবর্তী আত্মীয় বা অনাত্মীয় প্রাণীর প্রজনন

inbreeding এর ব্যাপারে কম বেশি সবারই কিছু না কিছু ধারনা শোনা আছে বলে আশা করি, যাইহোক, inbreeding কোন ব্যবহারিক উদ্দেশ্য আছে কি না এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। আর এটা অনেক কে এই বিষয়ে নিয়ে বিভ্রান্তিকর অবস্থার মধ্যে ফেলে। Inbreeding বলতে নিকট আত্মীয়তাসূত্রে আবদ্ধ প্রাণীদের মধ্যে সন্তান উৎপাদন কে বুঝাই। Inbreeding হল নিকট Kin(আত্মীয়) এবং out breeding, দূরবর্তী আত্মীয় বা অনাত্মীয় প্রাণীর প্রজনন। সহজ কথাই ভাল প্রজনন এর আশায় রক্ত লাইন বরাবর এর বাইরের অন্য রক্তের প্রজনন কে বুঝাই।

প্রজনন দীর্ঘ বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। Inbreeding জেনেটিক অপূর্ণতা ব্যাপক হত্তয়া এবং এটি তার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রয়োজন হতে পারে। এর মাধ্যমে সম্ভাবনা বৃদ্ধি, একটি জাতের জনসংখ্যা জিন বৈচিত্র্য হ্রাস করা হয়। অধিকাংশ উদ্ভিদ এবং প্রাণীর inbreeding এড়ানোর আচরণগত এবং অঙ্গসংস্থান পদ্ধতি বিকশিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। যাইহোক, আজ অনেক বিপন্ন প্রজাতির শুধুমাত্র inbreeding করা অনিবার্য। তাই এটি সংরক্ষণবাদীর জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রজনন নিয়ে আলোচনা করার সময় একসাথে দুই পাখি রাখা এবং তার সন্তানসন্ততি নিয়ে সহজভাবে আলোচনা করা হয় না। আমরা আমাদের স্টক থেকে অধিকাংশ সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে পেতে একটি উচ্চ মান সপন্ন প্রজাতির বংশবৃদ্ধি কিভাবে করা যায় তারই আলোচনা করা।

আমরা জিন এবং তারা কাজ এবং কৌশলগত জিনিস এবং কিভাবে তা কাজ করে তার খুঁটিনাটি বিষয় গবেষণা করা বেশ সহজ হয়। যদিও inbreeding একজন খামারিরি মুল লক্ষ্য হওয়ার কোন মানে হয় না। দুটি পদক্ষেপে প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ Inbreeding আর দ্বিতীয় ধাপে শঙ্কর যা আজ আমরা আলোচনাই যাচ্ছি না। তবে অনেকে এই শঙ্কর কেই একটি নতুন চক্র বলে বিবেচনায় এনে থাকেন। কিন্তু পশু ছাড়া, পাখি বা কবুতরের ক্ষেত্রে শঙ্কর ব্যাপারটা কোন কাজে আসে না তা অনেকেই সেটি সঠিক ভাবে জানেন না। inbreed যে দুটি সম্পর্কহীন পায়রার উপর ভিত্তি করে করা হয় বলে এটাই যথেষ্ট। fanciers একটি ভাল জাতের পায়রার রক্ত সংরক্ষণ বা inbreeding এর জন্য ব্যবহার দেখা যায়, যদিও এই প্রক্রিয়াটি খুব সহজ নয়। তবে অধিকাংশ অভিজ্ঞ ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, কবুতরের ক্ষেত্রে ভাই ও বোন ,বা একই রক্তের মধ্যে যদি জোড়া করা হয় তাহলে সে থেকে ভাল জাত আশা করা যায় না। যেমন ফাটা কবুতর,খারাপ জাতের কবুতর বা যারা রেস করতে পছন্দ করেন সেক্ষেত্রে নিম্ন দক্ষতা হতে পারে। যেমন মানুষের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটে থাকে। যেমন আত্মীয় বা একই ব্লাড গ্রুপ এর মধ্যে বিয়ে হলে অসুস্থ,বিকলাঙ্গ,ইত্যাদি সন্তান জন্ম নিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, একটি সফল জোড়া খুঁজে পেতে অসুবিধা হলে, মতভেদ ১/৮ এবং ১/১২ এর মধ্যে ডবল inbreeds সাফল্য ১/১৫ এবং ১/২০ হয়ে থাকে। যাইহোক, ট্রিপল inbreeds কাছাকাছি ১/৩০ হতে পারে। এই সংখ্যার কোন সঠিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে কিনা তা বলা যায় না। কিন্তু তারা খামারে এবং অন্যদের lofts উভয় ফলাফল এর সঙ্গে মিলে যায়। এই সংখ্যার উপর নির্ভর করে আপনি inbreeding প্রথম প্রজন্মের মধ্যে প্রজনন এক বছরের সাফল্য থাকার গড় ভাল ফলাফল দেখতে পারেন, এবং আপনি ডাবল এর সঙ্গে সাফল্য থাকার প্রথম দুই বছরের এক প্রশংসনীয় ভাল করার সুযোগ আছে । তবে, তৃতীয় বছরে, আপনি মতভেদ উল্লেখযোগ্য ব্যাকক্রস দেখতে পারেন। যদি এটি সত্য হয় তাহলে আপনি সাফল্যের জন্য পায়রার এর জীবনকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। যা অনেক সময় সম্ভব হয় না ।

এখন এর সংকর করন আমাদের জন্য কি করতে পারে। সঙ্করীকরণ (inbreeding প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ ) কোর্সের inbreeding প্রত্যেক প্রজন্মের জন্য বিনিময়ে কত উৎপাদন পাবেন? Inbreeding টেকসই করার জন্য প্রথমে আমরা যে inbreeding কম্প্রেশন বেশি প্রজন্মের বড় সংকর উৎপাদন অনুমান করা হয় মাত্র।

অনুসরণ এই ধারণা আরও সহজ করতে, এস = প্রজনন সাফল্যের হার, জি ( ) = জেনারেশন, ই () সম্ভব উৎপাদনের = শতকরা .
জি ( ১), এস (১/৮) , ই (৭৫%)
জি ( ২), এস (১/১৫) , ই (৮০%)
জি ( ৩), এস (১/৩০) , ই (৮৫%)

প্রথম প্রজন্মের মধ্যে , অল্প বয়স্ক ছেলেমেয়ে ১/৮ সফল হবে লক্ষ্য করুন, এবং তারা যখন তারা সম্ভাব্য উৎপাদন ৭৫% করা হবে। তারপর দ্বিতীয় প্রজন্মের দ্বারা, একটি ডবল inbred প্রজনন সম্ভাবনা ১/১৫ লক্ষ্য করবেন, কিন্তু আপনি শুধুমাত্র উৎপাদন এর অন্য ৫% পর্যন্ত বাছাই করতে বেশ কম এবং কর্ম সম্পন্ন এমনকি যখন আপনি শুধুমাত্র অন্য ৫% হয়, যা একটা ট্রিপল inbred প্রজনন সম্ভাবনা ১/৩০ যে তৃতীয় বৃত্তাকার পর্যায়ে হয়। এটা অনেক fanciers প্রথম প্রজন্মের inbreeding বিদ্ধ ঝোঁক এই কারণে হয়। যা পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে যেতে দেখা যায় না। তারপর একটি নতুন problem দেখা যায়। এখত্রে Inbreeds সমস্যার সম্মুখীন হয়।

সাধারণত ভাল উড়ে না এবং হাইব্রিড সাধারণত ভাল বংশবৃদ্ধি হিসাবে ধরা হয়না। তাই কয়েক কবুতর পরিবার কখনো প্রথম একই লাইন বরাবর থাকে না। যা সবচেয়ে কম fanciers শুরু করে। অনেকে প্রথম প্রজন্মের মধ্যে তারা একটি খুবই দুর্বল সংকর হিসেবে কাজ করে এবং এতে কিছু শূন্য সাফল্য থাকে। যদিও এতিকে অনেকে ইনব্রীড হিসাবে মনে করে থাকে। (একটি inbred সম্ভবত একটি সোজা ক্রস তুলনায় ৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী , কারণ এই প্রথম প্রজন্ম শুধুমাত্র inbreeding ধারণা দেয় )। যাইহোক, পরে দ্বিতীয় প্রজন্মের মধ্যে জিন পুল উল্লেখযোগ্যভাবে প্রশস্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যদি সঠিক নির্বাচন না হয় বা খেয়াল রাখা না হয় তাহলে এর সাফল্যের হার অনেক যায় নিচে যায়। সর্বাধিক fanciers শুধু জিন আবার মিলিত শুরু না হওয়া পর্যন্ত তিন বা চার প্রজন্মের জন্য পায়রা খুঁজে পাওার অপেক্ষার সময় বা ধৈর্য থাকে না। তাই তখন এটি বংশবৃদ্ধি করা যায় না আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে সত্য হাইব্রিড breeders তারা দেশী যা থেকে inbred পরিবারের দুই পক্ষের একই রক্তে ফিরে ( backcross ) হয়ে থাকে বা ফেরে আসার সভাবনা অনেক বেশি থাকে। প্রথম backcross এর পর এই প্রচেষ্টাটি বরবাদ হয়ে যায়। কারন দেখা যায় এক্ষেত্রে পুনরায় আগের পরিবারের সঙ্গে ক্রস এর মাধ্যমে আবার নতুন রক্ত ফিরে আসে। সম্প্রতি একটি inbreeding প্রোগ্রামে একজন fancier এই প্রচেষ্টা করেন। তিনি সম্ভবত ৫০ জোড়া রাখেন ও তারি উপর এই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেন। যাইহোক, যে হারে তিনি গভীর একাধিক প্রজন্মের inbreeds করেন। তবে এ ক্ষেত্রে সফল হবেন যদি বেশী backcross না হয়।
যখন inbreeding করা হয় তখন কিছু নিদিষ্ট কয়েকটি নিয়ম অনুসরণ করা উচিত বলে মনে করি।

১) ঘনঘন breeding না করা।(কারন এক্ষেত্রে কবুতরের স্পাম এর সংখ্যা কমে যায় ফলে ভাল জাত পাওয়া সম্ভব হয় না।)
২) শীতের সময় breeding না করা।
৩) নর মাদি কে আলাদা করে রাখা।
৪) breeding খোলা জায়গায় বা ঘরের মধ্যে করান।
৫) breeding কালীন সময়ে অ্যান্টিবায়টিক প্রয়োগ না করা।
৬) breeding জোড়া কে ভাল মানের খাবার ও ভিটামিন ও মিনারেলস সরবরাহ করা।

ইনব্রীড এর যদি একটি সহজ উদাহারন দেওয়া হয় তাহলে দেখা যায় এরূপঃ
একজন ব্রীডার ৪ জোড়া থেকে ৫০ জোড়ার মধ্যে একই প্রজাতির কবুতর বা পাকির মধ্যে এই প্রোগ্রাম করতে পারেন। যেমন ধরিঃ (abcd আকি প্রিজাতির ৮ টি কবুতর ও ১ নর ও ২ মাদি তাহলে a1-a2,b1-b2,c1-c2 ও d1-d2 এই ৪ জোড়া কবুতর ইনব্রীড করার সময় এর ব্লাড লাইন যদি ভেঙ্গে প্রথম প্রজন্ম a1+b2=ab1-ab2 বাচ্চা হল , b1+a2=ba1-ba2 বাচ্চা হল, c1+ d2=cd1-cd2 বাচ্চা হল and d1+c2+ =dc1-dc2 বাচ্চা হল অনুরূপ দ্বিতীয় প্রজন্মের জন্য ab1 + cd2, ab2+ cd1, dc2+ ba1, dc1+ ba2 এভাবে তৃতীয় প্রজন্মের ক্ষেত্রে ও একই তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন ভাবেই আবার আগের প্রজন্মের রক্ত ফেরে না আসে যাকে back cross বলে, অল্প সংখ্যক জোড়ারা ক্ষেত্রে এটি হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
ইনব্রীড শুধু জোড়া পরিবর্তন এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না,যেটা আগেই বলেছি যে ভাল ও পর্যাপ্ত খাবার। সময়মত ও প্র্যজনে সবসয় খাবার ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। ইনব্রীড এর গুরুত্ব শুধু fancy মধ্যেই সীমাবদ্ধ না racing কবুতরের ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

আমাদের দেশের কবুতর উৎপাদিত সৌখিন (fancy) বেদেশি কবুতর থেকে কোন অংশে কম নয় কিন্তু তারপরও বাইরের কবুতরের উপর একটা বিশেষ ঝোঁক দেখা যায়। যদিও বাইরের দেশের কবুতর পালন অনেক প্রতিকুল কিন্তু তারপরও তারা নিদিষ্ট নিয়ম পালনে ভাল জাত উৎপাদনে সফল হয়। যদিও আমাদের দেশে অনেক খামারি অনেক কষ্ট করে অনেক কাঠ খর পুড়িয়ে ভাল জাত উৎপাদন এর চেষ্টা করে কিন্তু উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় সেই উৎসাহে ভাটা পড়ে যায়। যেখানে অনেক খারাপ জাতের কবুতর বাইরের দেশ থেকে এনেও ভাল দাম পায়ে যায় সেই সব ব্যাবসায়িরা ফলে ভাল জাত দেশে উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে আমদানি তে উৎসাহিত হচ্ছে অনেকে। যেটা খুবই দুঃখ জনক ও অশনি সংকেত হিসাবে বলা যেতে পারে।

মূল লেখক : সোহেল রাবি ভাই

নভেম্বর 10, 2013 12:10 পূর্বাহ্ন